জলাবদ্ধতা ইস্যুতে বিতর্কিত মন্তব্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। নগরীর বিভিন্ন খাল, স্লুইসগেট ও কর্ণফুলী নদী পরিদর্শন শেষে দেওয়া তার বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা, এমনকি ট্রলও।
প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে চট্টগ্রামকে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, বাস্তবে তেমন কিছু তিনি দেখেননি। তার ভাষায়, “চট্টগ্রাম পানির মধ্যে ভাসছে—এটা সঠিক নয়।”
এই বক্তব্যের পরপরই অনেকে কটাক্ষ করে বলেন, “মাননীয় মন্ত্রীর চশমার সমস্যা আছে, চোখে কম দেখে।” তবে সমালোচনার জবাবে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন—তারা নিজেরা কোথাও জলাবদ্ধতা দেখেছেন কি না।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, আকস্মিক ভারী বৃষ্টিতে (৮০-৯০ মিলিমিটার) সাময়িক পানি জমে থাকাকে জলাবদ্ধতা নয়, বরং “জলজট” বলা উচিত। তার মতে, প্রকৃত জলাবদ্ধতা তখনই বলা যাবে, যখন কয়েকদিন ধরে পানি নামবে না।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, চট্টগ্রামের ৩৬টি খালের মধ্যে কয়েকটিতে চলমান উন্নয়নকাজের কারণে পানি নিষ্কাশনে সাময়িক বাধা তৈরি হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত পানি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে ৭০-৮০ শতাংশ জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হয়েছে। বাকি কাজ শেষ হলে ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে দাবি করেন তিনি।
এছাড়া বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে চলমান উন্নয়নকাজ সাময়িক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী, যাতে পানি নিষ্কাশনে বাধা না সৃষ্টি হয়।
সবশেষে তিনি বলেন, “ভারী বৃষ্টি হলে সাময়িক জলজট হতে পারে, তবে সেটি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরে যাবে”—এমনটাই প্রত্যাশা সরকারের।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—বাস্তবতা কি সত্যিই এতটা স্বস্তির, নাকি চোখের সামনেই লুকিয়ে আছে অন্য ছবি?

