বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

সৃজনশীল অর্থনীতিকে জিডিপির ৩ শতাংশে নিতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:

বাংলাদেশের সৃজনশীল অর্থনীতির অবদান মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ থেকে ৩ শতাংশে উন্নীত করতে চায় সরকার। এ খাতকে এগিয়ে নেওয়া গেলে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

- Advertisement -

সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে কর্মসংস্থান ব্যাংকের উদ্যোগে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা অর্থায়ন তহবিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের কোনো কোনো দেশের অর্থনীতিতে সৃজনশীল খাতের অবদান ১০ শতাংশ পর্যন্ত। বাংলাদেশ ১০ শতাংশে যেতে না পারলেও ২ থেকে ৩ শতাংশে নিতে পারলে এ খাতের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ যুক্ত হতে পারবেন। বিশেষ করে নারীদের জন্য এ খাতে কাজের বড় সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের খাবার, সংগীত, সংস্কৃতি, থিয়েটার, চলচ্চিত্র এবং অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন সৃজনশীল কাজকে বৈশ্বিক বাজারে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। গ্রাম-গঞ্জের গান, খাবার ও স্থানীয় সংস্কৃতিকে পণ্য হিসেবে গড়ে তুলে বিশ্ববাজারে বিক্রির উদ্যোগ নিতে হবে।

গ্রামীণ অঞ্চলের অনেক সৃজনশীল কাজ এখনো যথাযথভাবে বাজারজাত করা সম্ভব হয়নি উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, প্রয়োজনীয় সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনের মাধ্যমে এসব পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী করা সম্ভব।

তথ্যপ্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং খাতের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, এ খাতে যুক্ত তরুণদের সৃজনশীলতাকে মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী করতে হবে।

থাইল্যান্ডের ‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট’ কর্মসূচির উদাহরণ দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের সহায়তায় গ্রামের মানুষ ঘরে বসেই বিশ্ববাজারে বিক্রির উপযোগী পণ্য তৈরি করছেন। বাংলাদেশেও কাঁচামাল, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনে সহায়তা দেওয়া গেলে গ্রামের সৃজনশীল মানুষকে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব।

তিনি বলেন, এতে শুধু মানুষের জীবনযাত্রার মানই পরিবর্তন হবে না, দেশের অর্থনীতিতেও বড় অবদান রাখবে। বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ার পাশাপাশি রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

কর্মসংস্থান ব্যাংকের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু ঋণ দিলেই হবে না; ঋণগ্রহীতাদের পণ্য উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং ও বিপণনের ক্ষেত্রেও সহায়তা দিতে হবে। স্থানীয় পণ্যকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য উদ্যোক্তাদের পাশে থাকতে হবে।

তিনি জানান, কর্মসংস্থান ব্যাংক ইতোমধ্যে প্রায় ১৩ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পেরেছে। নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে আরও ৯ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলে মোট ২২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কুটিরশিল্প বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে। তাই বড় শিল্প ও বড় প্রকল্পের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

সৃজনশীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে উদ্যোক্তাদের শুধু ঋণ নয়, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং ও বিপণন সহায়তা দেওয়ার কথা জানান তিনি। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় পণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছাতে অ্যামাজন, আলিবাবাসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

সংগীত, সংস্কৃতি, থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও ওটিটি খাতের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, এসব সৃজনশীল পণ্যের কোনো ভৌগোলিক সীমা নেই। যথাযথ সহায়তা পেলে বাংলাদেশের শিল্পী ও সৃজনশীল মানুষ বিশ্ববাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।

তিনি বলেন, সৃজনশীল অর্থনীতি কোনো দাতব্য কার্যক্রম নয়; এর অর্থনৈতিক মূল্য ও রিটার্ন রয়েছে। তাই সংগীত, সংস্কৃতি ও অন্যান্য সৃজনশীল খাতের সম্ভাবনাময় মানুষদেরও ঋণের আওতায় আনতে হবে।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী কর্মসংস্থান ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বা এনপিএল কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেন। বর্তমানে ব্যাংকটির এনপিএল প্রায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ উল্লেখ করে তা ১ থেকে ২ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

ক্ষুদ্র ব্যবসা ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা অর্থায়ন তহবিলের পাইলট প্রকল্পে ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি সফল হলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার জানান, এ প্রকল্পের আওতায় ৫ থেকে ৬ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বলেন, বিশেষ করে ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে তিনটি জেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য জেলাতেও এর কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কর্মসংস্থান ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. এ এফ এম মতিউর রহমান। তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ২ শতাংশ সুদে তহবিল সরবরাহ করলে কর্মসংস্থান ব্যাংক আরও কম সুদে উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে পারবে। বর্তমানে ব্যাংকটি সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও