নগরীর সড়ক সংস্কার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও সবুজায়ন কার্যক্রম গতিশীল করতে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী রোড সুপারভাইজারদের আরও সক্রিয়, দায়িত্বশীল ও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন।
আগামী ছয় মাসের মধ্যে নগরীর অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহ, নিয়মিত তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সোমবার টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নগর ভবনে চসিকের আওতাধীন রোড সুপারভাইজারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরীর সড়ক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নিতে হলে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকতে হবে। রোড সুপারভাইজাররা নিজ নিজ এলাকার সড়কের অবস্থা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন।
তাই কোথায় সড়ক ভেঙে গেছে, কোথায় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে, কোথায় জরুরি সংস্কার প্রয়োজন এবং কোন সড়কে জনসাধারণের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে, সেসব তথ্য নির্ভুলভাবে সংগ্রহ করে দ্রুত প্রধান প্রকৌশলীকে জানাতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু সমস্যা চিহ্নিত করলেই হবে না, বরং সমস্যার গুরুত্ব বিবেচনায় অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং সমাধানের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
নগরীর অধিকাংশ প্রধান সড়ক আগামী ছয় মাসের মধ্যে সংস্কারের লক্ষ্যে প্রকৌশল বিভাগ কাজ করছে। শুষ্ক মৌসুমের অনুকূল আবহাওয়াকে কাজে লাগিয়ে সড়ক সংস্কার ও অন্যান্য প্রকৌশলগত কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে। কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে।
নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাতে অবৈধ দখল এবং হকার সমস্যার বিষয়ে প্রশাসক বলেন, সড়ক ও ফুটপাত দখল করে রাখলে নাগরিকদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে সড়কের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হয়।
যেসব স্থানে অবৈধ দখল রয়েছে কিংবা দখলমুক্ত করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সহায়তা প্রয়োজন, সেসব স্থানের তথ্য দ্রুত সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটদের জানাতে হবে। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সময় কোনো বাধা বা সমস্যার সম্মুখীন হলে এককভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা না করে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
সভায় রোড সুপারভাইজাররা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানান, বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দখল ও হকার সমস্যার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করতে গিয়ে অনেক সময় তাঁদের বাধার মুখে পড়তে হয়।
এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসক বলেন, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা ও দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নগরীর স্বার্থে দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা করা যাবে না।
জলাবদ্ধতা নিরসনে মাঠপর্যায়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে প্রশাসক বলেন, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। কোথাও ড্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হলে, পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে কিংবা সড়ক ও ড্রেনের রক্ষণাবেক্ষণে সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের জানাতে হবে।
সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করা জরুরি। সমন্বিতভাবে এসব সমস্যার সমাধান করা গেলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতাজনিত দুর্ভোগ কমানোর পাশাপাশি সড়কের স্থায়িত্বও বাড়ানো সম্ভব হবে।
নগরীর পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশের উন্নয়ন ও পরিকল্পিত সবুজায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সড়ক বিভাজক ও সড়কের পাশের উপযুক্ত স্থানে বৃক্ষরোপণ, রোপিত গাছের পরিচর্যা এবং সবুজ অবকাঠামো রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি রাখতে হবে।
কোথাও গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হলে কিংবা রক্ষণাবেক্ষণজনিত সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানাতে হবে। পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে প্রকৌশল বিভাগের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী কর্মীদেরও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
প্রশাসক আরও বলেন, নগরীর উন্নয়ন কার্যক্রম সফল করতে দাপ্তরিক পরিকল্পনার সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সমন্বয় ঘটাতে হবে। রোড সুপারভাইজারদের নিজ নিজ এলাকার সমস্যা সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য রাখতে হবে এবং দায়িত্ব পালনে নিয়মিততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
নাগরিকদের ভোগান্তি কমানো, নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ তৈরি এবং নগরীর অবকাঠামোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
সভায় চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

