মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মঙ্গলবার

০১ এপ্রিল ২০২৫

১৪ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৮ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

ঈদের ছুটিতে বান্দরবানে পর্যটকের ঢল

বান্দরবান প্রতিনিধি: এবারের ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাপ্তাহিক ছুটি ও সরকারি ছুটি মিলিয়ে ৯ দিনের লম্বা বন্ধের সময়ে ‘পাহাড় কন্যা’ বান্দরবানে বিপুল পরিমাণ পর্যটকের সমাগম ঘটেছে।

যদিও ঈদের প্রথম দিন জেলায় পর্যটকদের আনাগোনা কিছুটা কম থাকলেও ঈদের দ্বিতীয়  দিন হতে দেশের বিভিন্ন জেলার দুরদুরান্ত হতে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের সমাগম হয়েছে পাহাড় কন্যা বান্দরবানের পর্যটন কেন্দ্র গুলোতে।

চোখ জুড়ানো সবুজে ঘেরা পাহাড়ের  প্রাকৃতিক সৌন্দর্য,প্রাকৃতিক নির্মল বাতাস গায়ে লাগিয়ে  আঁকা-বাঁকা পাহাড়ি পথে ছুটে চলা, এগারোটি নৃগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবনের সৌন্দর্য অবলোকন ছাড়াও পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে জেলা সদর ছাড়াও উপজেলা গুলোতে আছে দর্শনীয় সব পর্যটন স্পষ্ট।

বরাবরই ঈদে পর্যটকদের ভ্রমনের তালিকায় প্রথম  স্থান পাচ্ছে মেঘলা, নীল আচল, নীল গিরি, শৈল প্রপাত, চিম্বুক, নীল দিগন্ত, এছাড়া সম্প্রতি উন্মুক্ত হওয়া রোয়াংছড়ি উপজেলার দেবতাখুম পর্যটণ স্পটেও পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে।

সরেজমিনে ঈদের দ্বিতীয় দিনে বিকেল চারটায় নিলাচল পর্যটন কেন্দ্রের টিকেট কাউন্টার ম্যানেজার জানান এ পর্যন্ত তিন হাজারের অধিক টিকেট বিক্রি করেছি,বেলা বাড়লে পর্যটকদের আনাগোনাও বাড়তে থাকে।

ঈদের লম্বা ছুটিতে বগুড়া হতে ব্যাংকার দম্পতি খন্দকার রাহাত তার স্ত্রী খালেদা দিলরুবা মেয়ে রায়া নাওয়ার কে নিয়ে ঘুরতে এসেছেন বান্দরবানে। ব্যাংকার খালেদা দিলরুবা জানান ঈদে ৯ দিন ছুটি পেয়েছি, বাচ্চকে নিয়ে এসেছি,আমাদের দেশটাকে এক্সপ্লোর করার জন্য বান্দরবান একটি চমৎকার জায়গা।

ব্যাংকার দম্পতির মেয়ে রায়া নাওয়ার বলেন ঈদ উপলক্ষে আমার বাবা মায়ের অফিস বন্ধ সে জন্য পুরো পরিবারের সবাই বান্দরবানে ঘুরতে এসেছি,বান্দরবানে না আসলে ঈদ যাত্রা টা অপূর্ণ লাগে।

ঘুরতে আশা আরেকজন পর্যটক জানালেন লম্বা সময় ছুটি পাওয়া হয়না, ব্যাস্ততার কারনে পরিবারকে ঠিকভাবে সময় দেয়া হয় না তাই লম্বা ছুটিটা কাজে লাগাতে আমার পরিবার ও মা, বাবা সহ বান্দরবানে ঘুরতে আসছি। নীলাচলে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দুটুই দেখা যায় এই অনুভূতি টা বলার ভাষা নেই।

ঘুরতে আশা স্থানীয় জনসাধারণ বলেন সপ্তাহিক বন্ধ আর বিশেষ দিবসে যখনি সময় পাই বান্দরবানের অপরূপ সৌন্দর্য্য মণ্ডিত নীালাচল পর্যটণ কেন্দ্রে চলে আশি।

ঈদ উপলক্ষে প্রচুর পর্যটকের আনাগোনা ঘটেছে।
আগত পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়ে নীলাচল টুরিস্ট পুলিশ পরিদর্শক সৈকত কুমার রায় ঢাক পোস্ট কে বলেন আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় পোশাকধারী পুলিশ সদস্যদের বাইরে সাদা পোশাকও পুলিশ সদস্যরা কাজ করছেন।

আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় আমরা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি, পর্যটকরা নির্বিঘ্নে পর্যটণ স্পট গুলো ঘুরতে পারবে।

ঈদ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রকৃতি প্রেমী পর্যটকেরা ছুটে আসছে সবুজ পাহাড়ের সাথে মেঘের মিতালি উপভোগ করার জন্য। পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ পাহাড়-পর্বত ছাড়াও রয়েছে অসংখ্য ঝিরি-ঝর্ণার স্বচ্ছ জলধারা লেক।

সন্ধ্যা নামলেই জেলা সদরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন আগত পর্যটকরা। রাতের বেলায় বর্নিল আলোক সজ্জিত বান্দরবান জেলা শহরের সাঙ্গু ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা জেলায় আগত পর্যটকেরা সারাদিনের ক্লান্তি লাঘবের জন্য রাতের বেলায় আড্ডা জমাতে পারবেন সাঙ্গু নদীর ব্রীজ সংলগ্ন সেনাবাহিনীর পরিচালিত “মেঘদুত” ক্যান্টিনে, যেখানে আগত দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে খোলা আকাশের নিচে বসে বারবিকিউ উপভোগ করার ব্যাবস্থা সহ উন্নত সব খাবার। ফটো পয়েন্টে বসে ছবি তুলে স্বরনীয় করে রাখতে পারবেন ঈদের বান্দরবান ভ্রমনের সব স্মৃতি।

এদিকে ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে জেলার আবাসিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্টে শতভাগ বুকিং নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্টরা, ধারনা করা হচ্ছে আগামী ৪ তারিখ পর্যন্ত জেলায় পর্যটক সমাগম বিগত সময়ের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।

দীর্ঘদিন জেলায় পর্যটন খাতের ক্ষতি পুষিয়ে স্বাভাবিক হওয়ায় খুশি পর্যটণ খাতের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িরা।