সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বৃহস্পতিবার

০৩ জুলাই ২০২৫

৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

জীবনঘনিষ্ঠ কবি ছিলেন রবীন্দ্রনাথ-নজরুল: শিক্ষা উপদেষ্টা

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম দুজনই জীবনঘনিষ্ঠ কবি ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার। তিনি বলেন, ‘জীবনঘনিষ্ঠ বলেই তাঁরা মানুষের কল্যাণ ও মনুষ্যত্বের বিকাশের কথা বলেছেন।’

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির মিলনায়তনে আয়োজিত ‘রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী’ উপলক্ষে ‘দৈশিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল পাঠ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি মানুষের জীবনে সুখ, দুঃখ, আনন্দ, উল্লাস, ভালোলাগা, ভালবাসা, সমস্যা থাকতে পারে। কারো জীবন সংগ্রামী কিংবা স্বচ্ছন্দের হতে পারে। সাহিত্য, কবিতা ও সঙ্গীত আমাদের জীবনের এই বিষয়গুলো লাঘব করতে সহায়তা করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মধ্যযুগের কবি বলেছেন, “সবার উপরে মানুষ সত্য”; নজরুলের কণ্ঠেও শুনেছি, “মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই নহে কিছু মহীয়ান”; রবীন্দ্রনাথ বঙ্গজননীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন, “মানুষ হইতে দাও তোমার সন্তানকে”।’

ড. আবরার বলেন, ‘বর্তমানে আমরা দৈশিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখবো, মানুষ হিসেবে আমাদের যে কর্তব্য, তা পালনে আমরা উদাসীন, নিষ্ক্রিয় ও ব্যর্থ। একজনের প্রতি অন্যজনের মানবিক সহানুভূতি ও সহমর্মিতা আজ বিলুপ্ত প্রায়। নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থে অপরকে নির্যাতন ও নিপীড়ন করতেও আমরা কুণ্ঠিত হই না।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের চারদিকে আজ রণদামামা বেজে উঠেছে। এর ফলে লাঞ্ছিত হচ্ছে মানুষ, বিপন্ন হচ্ছে মানবতা। এই নৈরাজ্য ও অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধেই নজরুল রণহুঙ্কার দিয়ে বলেছিলেন, “আমি সেই দিন হব শান্ত, যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন রোল আকাশে-বাতাসে ধ্বনিবে না।”

রবীন্দ্রনাথ চরম বিপর্যয়ের মধ্যেও মানুষের কল্যাণবোধের প্রতি আস্থা হারাননি; বলেছিলেন, “মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ”।’

তিনি দার্শনিক উইল ড্যুরান্টের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘তিনি “The Story of Civilisation” লেখার পর বলেছিলেন, “আমি যখনই মানুষের ইতিহাসের দিকে তাকিয়েছি, তখন মনে হয়েছে, এ যেন রক্তবাহী এক নদী… কিন্তু যখন নদীর দুই তীরের দিকে তাকিয়েছি, তখন দেখলাম, সেখানে মানুষ কবিতার ছন্দে, গানের সুরে, সমুন্নত ভাস্কর্যে জীবনের জয়গাথা রচনা করে চলেছে।”’

ড. আবরার বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল এই ভয়াবহ পৃথিবীতে জীবনের জয়গান গাইবার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন আমাদের।

এজন্যই এই দুই কবি আমাদের জন্য প্রাসঙ্গিক। তাঁদের রচনার মানবিক আবেদনে উদ্বুদ্ধ হওয়ার জন্য তাঁদের পাঠ ও অধ্যয়ন আমাদের জন্য আবশ্যিক।’

অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মোরশেদ শফিউল হাসান, প্রাবন্ধিক ও গবেষক; অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম, মহাপরিচালক, বাংলা একাডেমি এবং জনাব কুদরত-এ-হুদা, পরিচালক, মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। সভাপতিত্ব করেন ড. মো: ওমর ফারুক, রেক্টর (সচিব), বিসিএস প্রশাসন একাডেমি।