রবিবার
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ভিত্তিতেই বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।
আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, ২০০৭ সাল থেকে প্রতি বছর ১৫ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস’ পালিত হচ্ছে। এটি গণতন্ত্রের সারবত্তা ও অন্তর্নিহিত শক্তি সম্পর্কে বিশ্ব সম্প্রদায়ের আগ্রহ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পালন করা হয়। তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রাণ হারানো শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বারবার স্বৈরতন্ত্র হানা দিয়েছে বাংলাদেশে। রাজনৈতিক দল ও সংবাদপত্র নিষিদ্ধ করা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা, ভুয়া ভোটার দিয়ে নির্বাচন আয়োজন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করার মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। গত দেড় দশকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের কারণে গণতন্ত্র বন্দী হয়ে পড়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস-২০২৫ এর প্রতিপাদ্য— “অ্যাচিভিং জেন্ডার ইকুইলিটি অ্যাকশন বাই অ্যাকশন” উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রে নারী-পুরুষ বা অন্য যেকোনো লিঙ্গের মানুষের সমান সুযোগ ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র হলো সর্বজনীন মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক পদ্ধতি। জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিসর নির্ধারণে স্বাধীনভাবে প্রকাশিত ইচ্ছা ও পূর্ণ অংশগ্রহণের ওপরই এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইতিহাসে ভয়ঙ্কর স্বৈরশাসনের পতন ঘটেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমান আহ্বান জানান— ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, “আমাদের রাষ্ট্র মেরামতের ভিত্তি হবে অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন; বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের মূলনীতির প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োগ।”
শেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, “ইনশাআল্লাহ, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবো, যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সমৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতা নিশ্চিত হবে; প্রতিষ্ঠিত হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উদার রাজনৈতিক পরিবেশ এবং সামাজিক ন্যায়পরায়ণতা।”