রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শুক্রবার

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

সবজির দাম আকাশচুম্বী, সাধারণ মানুষের কষ্ট বেড়েছে চট্টগ্রামে

স্টাফ রিপোর্টার: চট্টগ্রামের কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের লাগামহীন দাম ভোক্তাদের হাঁসফাঁস অবস্থার মধ্যে ফেলেছে। মাছ, মাংস, ডিম, ডাল থেকে শুরু করে সব ধরনের সবজির দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

পেঁপে ছাড়া কোনো সবজির দাম ৭০ টাকার নিচে নেই। করলা, বরবটি, ঢেঁরস ও ঝিঙা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০-১২০ টাকায়। কাঁচামরিচ ১৮০-২০০, নতুন শিম ২২০-২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে সস্তা সবজি হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে, সেটিও ৩৫-৪০ টাকা কেজি। ফার্মের মুরগির ডিম ডজনপ্রতি ১৩৫-১৪৫, দেশি মসুর ডাল ১৬০-১৮০ টাকা।

ক্রেতাদের ক্ষোভ

চকবাজারে বাজার করতে আসা স্কুলশিক্ষক নুরুল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এখন মাছ-মাংস কেনা তো দূরের কথা, সবজিও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। আগে মাসে এক-দু’বার গরুর মাংস কিনতাম, এখন সেটা পুরোপুরি বাদ দিতে হচ্ছে।”

জুবলি রোডের বাসিন্দা গৃহিণী লায়লা আক্তার বলেন, “আগে মাংসের দাম বাড়লে আমরা ডিম আর সবজির ওপর নির্ভর করতাম। কিন্তু এখন ডিম, সবজি—সব কিছুর দাম আকাশচুম্বী। সংসারের খরচ মেলাতে প্রতি মাসে ধার করতে হচ্ছে।”

বিক্রেতাদের যুক্তি

কর্ণফুলী বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “টানা বৃষ্টির কারণে কৃষকের অনেক ফসল নষ্ট হয়েছে। পাইকারি বাজার থেকেই আগের চেয়ে দ্বিগুণ দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরায়ও বেশি দামে বিক্রি ছাড়া উপায় নেই।”

রাউজানের মাছ ব্যবসায়ী শফিউল কবির জানান, “আগে যেসব ছোট মাছ ২৫০-৩০০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা ৫০০ টাকার কাছাকাছি। দাম বাড়ায় ক্রেতারা মাছ কেনা কমিয়ে দিয়েছে, এতে আমরাও লোকসান গুনছি।”

বিশেষজ্ঞদের মত

বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সরবরাহ ঘাটতির পাশাপাশি বাজারে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাবও দায়ী।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ড. মো. শাহীন আলম বলেন, “সরকারি সংস্থাগুলোর নিয়মিত বাজার তদারকি না থাকায় অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সীমিত আয়ের মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”

চট্টগ্রামের ক্রেতাদের দাবি—সরকার যেন দ্রুত বাজারে হস্তক্ষেপ করে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনে।