বুধবার
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ট্রাম্প যদি সত্যিই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিততে চান, তবে গাজার যুদ্ধ বন্ধ করতেই হবে।
মঙ্গলবার জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন ম্যাক্রোঁ। খবর সামা টিভির।
ফিলিস্তিন স্বীকৃতি ও ইসরাইল ইস্যু
ম্যাক্রোঁ বলেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর ইসরাইল যদি ফ্রান্সের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তবে তার জবাব দিতে ফ্রান্স প্রস্তুত।
ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল বিএফএম টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “যদি এমনটা হয়, আমরা প্রস্তুত। তবে আমি মনে করি, এই মুহূর্তে শান্তির পথ ও বন্ধুত্বের পথ বেছে নেওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “নোবেল শান্তি পুরস্কার তখনই সম্ভব, যদি এই যুদ্ধ বন্ধ হয়। তাই ইসরায়েলি সরকারকে গাজায় সংঘাত থামাতে চাপ দেওয়া জরুরি।”
যুক্তরাষ্ট্রের ওপর দায়
ম্যাক্রোঁ মনে করেন, গাজার সংঘাত বন্ধ করতে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার ভাষায়, “কারণ আমরা সেই অস্ত্র সরবরাহ করি না, যেগুলো দিয়ে গাজার যুদ্ধ চালানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রই তা করছে।”
তিনি আরও বলেন, ইসরাইলের বর্তমান নীতি কোনো পরিকল্পনা নয়, বরং নিজেদের জনগণকে অবিরাম যুদ্ধের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে।
ইউরোপের কূটনৈতিক উদ্যোগ
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট জানান, তাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ইসরাইল সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। একইসঙ্গে ইসরাইলিদের বোঝাতে সাহায্য করছে যে, এটি শান্তির উদ্যোগ এবং এর বাস্তবায়ন তাদের সঙ্গেই করা হবে।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ঢল
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আগে লুক্সেমবার্গ, বেলজিয়াম, অ্যান্ডোরা, ফ্রান্স, মালটা, মোনাকো ও সান মারিনো ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর আগের দিনই ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগাল একই ঘোষণা দেয়।
এর ফলে ১৯৮৮ সালে ইয়াসির আরাফাতের ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৫৯টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।