সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোমবার

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

ইসলামী ব্যাংকে বড় ধরনের ধাক্কা: ২০০ কর্মী ছাঁটাই, ওএসডি ৪৯৭১

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডে ব্যাপক প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চাকরিবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০০ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং আরও ৪ হাজার ৯৭১ জনকে বিশেষ পর্যবেক্ষণাধীন (ওএসডি) রাখা হয়েছে।

ওএসডি হওয়া কর্মীরা বেতন-ভাতা পেলেও তাদের কোনো কাজের দায়িত্ব থাকবে না বলে ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।

ব্যাংক সূত্র জানায়, ছাঁটাই ও ওএসডি হওয়া কর্মীদের অনেকেই চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা। তারা মূলত এস আলম গ্রুপের প্রভাবাধীন সময়ে পরীক্ষা ছাড়াই জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়ে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগে ইসলামী ব্যাংকে কর্মী ছিল প্রায় ১০ হাজার, যা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজারে। এর অর্ধেকের বেশি কর্মী চট্টগ্রাম অঞ্চলের।

এভাবে অযোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগের ফলে ব্যাংককে প্রতিবছর প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। গত কয়েক বছরে এর অঙ্ক দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

নতুন পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর সিনিয়র অফিসার থেকে শুরু করে অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ক্যাশ) পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার কর্মীর সক্ষমতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেয়। এজন্য ২২ সেপ্টেম্বর বাধ্যতামূলক পরীক্ষা নেওয়ার নোটিশ জারি করা হয়।

কিন্তু গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টায় আয়োজিত পরীক্ষায় ডাকা ৫ হাজার ৩৮৫ জনের মধ্যে মাত্র ৪১৪ জন অংশ নেন। বাকিরা পরীক্ষা বর্জন করেন। পরদিন তারা অফিসে এলেও কাজে বসতে দেওয়া হয়নি।

কর্মীদের একাংশ অভিযোগ করেছেন, হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ অমান্য করে জোরপূর্বক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত পদোন্নতির পরীক্ষা নেওয়া গেলেও এ ধরনের বিশেষ পরীক্ষা আইন বহির্ভূত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “কর্মীদের মান যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষা নেওয়া দেশে প্রথমবারের মতো ঘটছে। সাধারণত পরীক্ষা হয় পদোন্নতির জন্য, ছাঁটাইয়ের জন্য নয়।” তিনি আরও জানান, ব্যাংকের নীতিমালায় যদি পরীক্ষার বিধান থাকে, তবে তা কার্যকর করা আইনসিদ্ধ। ফলে বিষয়টি আদালত ও ইসলামী ব্যাংকের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইসলামী ব্যাংকের সংকট কেবল আর্থিক নয়, এটি প্রশাসনিক ও নীতিগতও। অবৈধ নিয়োগ ব্যাংকের পেশাদারিত্ব নষ্ট করেছে, গ্রাহকের আস্থাও কমিয়েছে। ভবিষ্যতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এসব নিয়োগ আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে সমাধান জরুরি বলে তারা মনে করছেন