শনিবার
২৫ অক্টোবর ২০২৫
৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরে তৈরি হচ্ছে মৌসুমের নতুন ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থার’। আগামী তিন দিনের মধ্যেই এটি শক্তি সঞ্চয় করে পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) প্রকাশিত সর্বশেষ আপডেটে আইএমডি জানায়, বর্তমানে সাগরে একটি নিম্নচাপ সক্রিয় রয়েছে, যা ২৬ অক্টোবরের মধ্যে গভীর নিম্নচাপে এবং ২৭ অক্টোবরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়টির সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। এতে উপকূলীয় অঞ্চলে তিন ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসেরও আশঙ্কা রয়েছে।
আইএমডির পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থার’ ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালা, তামিলনাড়ু, কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশায় আঘাত হানতে পারে। তবে দিক পরিবর্তন করলে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা হয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, নতুন ঘূর্ণিঝড়টির নাম ‘মন্থার’ দিয়েছে থাইল্যান্ড। থাই ভাষায় ‘মন্থার’ শব্দের অর্থ ‘সুন্দর ফুল’। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)-এর অধীনে থাকা ১৩টি দেশ পর্যায়ক্রমে উত্তর ভারত মহাসাগরের ঘূর্ণিঝড়গুলোর নামকরণ করে থাকে। এ দেশগুলো হলো—বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন।
এদিকে, সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়কে ঘিরে শুক্রবারই বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি)। এক বিজ্ঞপ্তিতে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব ধরনের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে না যেতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানলেও এর প্রভাব বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকাতেও পড়তে পারে। তখন দমকা হাওয়া, জলোচ্ছ্বাস ও ভারি বৃষ্টিপাত দেখা দিতে পারে।
তারা সবাইকে আগাম সতর্কতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জীবনরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।