মঙ্গলবার
২৮ অক্টোবর ২০২৫
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


এম জয়নাল, স্টাফ রিপোর্টার: চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া এক্সেস রোডে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের ছবি সম্বলিত ব্যানার লাগানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় মো. সাজ্জাদ (২৬) নামে এক যুবদল কর্মী নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় যুবদল ও ছাত্রদলের অন্তত ১০ জন আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত ১টার দিকে বাকলিয়ার এক্সেস রোড এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে।
নিহত সাজ্জাদ কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার হিরাকান্দা ইউনিয়নের মো. আলম ও ফরিদা বেগমের ছেলে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া তক্তারপুল এলাকার বিসমিল্লাহ টাওয়ারে বসবাস করতেন।
আর আহতরা হলেন-জুয়েল, সাব্বির, শরিফ, ইয়াসিন, একরাম, সাগর, পারভেজ ও মারুফ। তারা সকলে নগরীর ওয়াপদা গেইট, বউ বাজার ও নেপচুন ক্লাব এলাকার লোকজন।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম আশেক বলেন, “কে কোন রাজনৈতিক দলের তা আমি জানি না। তবে রাত ১টার দিকে এক্সেস রোড এলাকায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ একজনকে চমেকে আনা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, “ঘটনার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন, তদন্ত চলছে।”
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, বোরহান উদ্দিন ও সোহেল নামে দুই যুবক নিজেদের চকবাজার থানা যুবদল নেতা পরিচয়ে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গাজী মো. সিরাজ উল্লাহ ও চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এর ছবি সম্বলিত ব্যানার ও পোস্টার শহরের বিভিন্ন স্থানে লাগান বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ ধরনের পোস্টার এখনো হাতে আসেনি প্রতিবেদকের।
যুবদলের অভিযোগ, বোরহান–সোহেল একসময় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সম্প্রতি তারা খোলস পাল্টে যুবদলের পরিচয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।
এ ধরনের ব্যানার লাগানোর বিষয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত বিষয়টি জানতে পেরে নির্দেশ দেন, “এসব ব্যানার সরিয়ে ফেলতে।” এরপর মঙ্গলবার রাতে যুবদল ও ছাত্রদলের একাংশ মেয়রের নির্দেশে ব্যানার নামাতে গেলে বোরহান–সোহেল গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে।
প্রত্যক্ষদর্শী যুবক মো. জসিম উদ্দিন ফেসবুক লাইভে বলেন, “যুবলীগ–ছাত্রলীগের ছেলেরা এখন যুবদল ছাত্রদলের নাম ভাঙিয়ে ব্যানার লাগাচ্ছে, চাঁদাবাজি আর মাদক ব্যবসা করছে। মেয়র আমাদের বলেন ব্যানার খুলে ফেলতে। আমি নিজে খুলে ফেললে তারা আমাকে তুলে নিয়ে মারধর করে। পরে খবর পেয়ে আমাদের ছেলেরা গেলে অফিস থেকে ওরা গুলি ছোড়ে। তখন সাজ্জাদ ভাই নিহত হন, আরও অনেকে আহত হয়।”
অন্য প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্র প্রতিনিধি জিএম সালাহ উদ্দিন কাদের আহসান জানান, “৫ আগস্টের পর থেকে বোরহান–সোহেল মেয়রের ছবি দিয়ে নানা ব্যানার লাগাচ্ছিল। মেয়র বিষয়টি জানতে পেরে নামাতে বলেন। তখনই তাদের সঙ্গে যুবদল–ছাত্রদলের ছেলেদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। অফিস থেকে তারা গুলি ছোড়ে, এতে সাজ্জাদ মারা যায়।”
চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের (বহিষ্কৃত) নেতা এমদাদুল হক বাদশা বলেন, “বোরহান আর সোহেল আগে যুবলীগ করতো, এখন যুবদলের পরিচয়ে নানা অপকর্ম করছে। বিএনপির যুবদলের ৪৭ তম জন্মদিন উপলক্ষে মেয়র শাহাদাত ও গাজী সিরাজের ছবি দিয়ে ব্যানার লাগিয়েছিল তারা। মেয়র জানতে চাইলে সিরাজ বলেন, এরা আমাদের কেউ নয়। তখন মেয়র ব্যানার সরাতে বলেন। তখনই তাদের সঙ্গে আমাদের ছেলেদের সংঘর্ষ হয়।”
নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, গুলি চালিয়ে সাজ্জাদকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী এন. বোরহান উদ্দিন, যিনি অতীতে আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ শামশুল হক চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন এবং বর্তমানে পটিয়ার জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন তাঁতী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম সোহেল গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে স্থানীয়রা জানায়।
বাকলিয়া থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, “সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এলাকাজুড়ে পুলিশ টহল জোরদার করা হয়েছে।”