শনিবার
০৮ নভেম্বর ২০২৫
৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: দেশের সব উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে সাপের কামড়ের প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। একই সঙ্গে প্রতিটি উপজেলা সদরের কমপক্ষে দুটি ফার্মেসিতে অ্যান্টিভেনম মজুত রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৮ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মীর এ কে এম নুরন্নবী।
এই নির্দেশনা আসে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের দাখিল করা প্রতিবেদনের মাধ্যমে।
এর আগে গত ১৭ আগস্ট হাইকোর্ট উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদালত স্বাস্থ্যসচিব, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।
জনস্বার্থে দায়ের করা ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি হয় গত ১৮ আগস্ট। রিটকারী আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মীর এ কে এম নুরন্নবী, সহযোগিতায় ছিলেন অ্যাডভোকেট ইসমাঈল হোসেন।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান ও তানিম খান, এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইকরামুল কবির।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত সাপের কামড়ে ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং এই সময়ে ৬১০ জন সাপের দংশনের শিকার হন। সম্প্রতি দেশে ভাইপারিড গ্রুপের এক প্রজাতির বিষধর সাপ ২৭টি জেলায় ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
২০২২ সালে পরিচালিত জাতীয় জরিপের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বাংলাদেশে চার লাখের বেশি মানুষ সাপের দংশনের শিকার হন এবং প্রায় সাড়ে সাত হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।
ডা. রোবেদ আমিন বলেন, “বিষধর সর্পদংশনের স্বীকৃত চিকিৎসা হচ্ছে অ্যান্টিভেনম। এটি তৈরি হয় সাপের বিষ সংগ্রহ করে তা ঘোড়ার শরীরে প্রয়োগের মাধ্যমে। এরপর ঘোড়ার রক্তের সিরাম থেকে নানা প্রক্রিয়ায় প্রতিষেধক প্রস্তুত করা হয়।”
বাংলাদেশে বর্তমানে অ্যান্টিভেনম তৈরি হয় না। ভারত থেকে আমদানি করা প্রতিষেধক সরকারি হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়।
তিনি আরও জানান, অ্যান্টিভেনম ক্রয়, বিতরণ ও ব্যবহার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি না থাকলেও এর চিকিৎসাগত সুফল স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপজেলা পর্যায়ে এই নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে তৃণমূল পর্যায়ের রোগীরা দ্রুত সেবা পাবেন, ফলে সর্পদংশনে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে।