রবিবার
১৬ নভেম্বর ২০২৫
১২ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৬ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: উচ্চ আদালতের জামিনে কারামুক্ত মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ঢাকার শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজিরা দিয়েছেন।
রোববার সকালে ছোট ভাই কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আব্দুল কাদের সিদ্দিকীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি আদালতপাড়ায় উপস্থিত হন।
এদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই তৌফিক হাসান প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় আদালত নতুন তারিখ হিসেবে আগামী ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করে। প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই জিন্নাত আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
লতিফ সিদ্দিকীর আইনজীবী রেজাউল করিম হিরণ আদালতে তার পক্ষ থেকে হাজিরা দেওয়ার আবেদন করেন। তিনি জানান, “তার বয়স ৮৬ বছর এবং বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। তাই আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার উপযোগিতা রয়েছে।” আদালত আবেদন মঞ্জুর করে ভবিষ্যতে তার সশরীরে হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেয়।
সকাল সাড়ে ১০টায় হাজিরা শেষে লতিফ সিদ্দিকী ও কাদের সিদ্দিকী আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে।
মামলার প্রেক্ষাপটে গত ২৮ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান বিষয়ক আলোচনা সভায় ‘মব’ হামলার শিকার হন লতিফ সিদ্দিকী। পরে তাকে সাংবাদিক পান্নাসহ মোট ১৬ জনকে পুলিশ আটক করে। পরদিন শাহবাগ থানায় তাদের বিরুদ্ধেই ‘দেশকে অস্থিতিশীল করা ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র’–সংক্রান্ত মামলা হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ৫ আগস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে এবং ২৮ আগস্ট ঢাকায় আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভাজুড়ে বিশৃঙ্খলায় কয়েকজনকে অবরুদ্ধ করা হয় এবং পুলিশ এসে মোট ১৬ জনকে হেফাজতে নেয়।
আটকদের মধ্যে লতিফ সিদ্দিকী ছাড়া বাকি ১৫ জনের নাম মামলা সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। পরে সাবেক সচিব ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম ও আবু আলম শহীদ খানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
লতিফ সিদ্দিকীর জামিন আবেদন প্রথমে ম্যাজিস্ট্রেট ও জজ আদালতে নাকচ হয়। পরে হাই কোর্টে আবেদন করলে বিচারপতি এ এস এম আবদুল মোবিন ও বিচারপতি সগীর হোসেনের বেঞ্চ ৬ নভেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আপিল সত্ত্বেও ১০ নভেম্বর আপিল বেঞ্চ জামিন বহাল রাখে। এর পর জামিনের নথিপত্র কারাগারে পৌঁছালে ১২ নভেম্বর তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরাণীগঞ্জ) থেকে মুক্তি পান।