সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রবিবার

১৬ নভেম্বর ২০২৫

৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

অবনতি চলছে অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলার—নির্বাচিত সরকারই সমাধান: ফখরুল

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: আগামীকাল বিএনপি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘গণহত্যা মামলার’ রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি দাবি করেন, রায়কে ঘিরে একটি মহল আবারও নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে, যা রুখে দেওয়া প্রয়োজন।

রোববার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল বলেন, “আগামীকাল ফ্যাসিস্ট হাসিনার গণহত্যার ট্রায়ালের রায় হবে। এটি নিয়ে মানুষের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। একটি মহল দেশে আবারও নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চাইছে—আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।”

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে “অস্বাভাবিক ও বিভ্রান্তিকর” উল্লেখ করে তিনি বলেন,বাংলাদেশের রাজনীতি এখন এমন সব ঘটনার মুখোমুখি, যা দেশের মানুষের কাছে আগে অকল্পনীয় ছিল। “এগুলো বাংলাদেশের আত্মা নয়,” মন্তব্য করেন তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের নামে যারা এসেছে, তারা রাজনৈতিক কাঠামোকে একটি দিকে নিতে চেয়েছে, কিন্তু তা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না—এখনই বলা যায় না।”

গণতন্ত্রে উত্তরণের একমাত্র পথ নির্বাচন—বিএনপির এই অবস্থান আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও এখন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে যে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে কিছু গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে নির্বাচন ব্যাহত বা বিলম্বিত করতে চাইছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা অবনতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার ছাড়া এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। “দেশ এখন জটিল সংকটে,” দাবি করেন তিনি।

আগামীকালের রায়কে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা পুনর্ব্যক্ত করে ফখরুল বলেন, “গণহত্যা মামলার রায়কে ঘিরে একটি মহল আবারও নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চাইছে। বাংলাদেশের ছাত্রদের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তা যেন নষ্ট না হয়।” তিনি গণতন্ত্র রক্ষায় সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

সব রাজনৈতিক দলের প্রতি ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আসুন, ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথকে এগিয়ে নেই। ভাসানীর আদর্শে আমরা যেন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারি।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। সঞ্চালনায় ছিলেন কৃষক দলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এস কে সাদি। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইসতিয়াক আজিজ উলফাত, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলাম, ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক রহমানসহ অনেকে।