সোমবার
১৭ নভেম্বর ২০২৫
৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে করা মামলার রায়কে ঘিরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকালে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, এপিবিএনসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি। সেনাবাহিনী সাঁজোয়া যান নিয়ে মোতায়েন আছে। আশপাশের এলাকাতেও কঠোর নজরদারি চলছে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় পথচারী চলাচল সীমিত করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের প্রতিটি ফটকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছে।
এটি গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম মামলা, যার রায় আজ ঘোষণা করা হবে। বিশ্বের অন্যতম সংবাদমাধ্যম রয়টার্স আদালতের রায় লাইভ সম্প্রচার করবে, যা সরাসরি দেখতে পারবে আন্তর্জাতিক অডিয়েন্স।
মামলায় তিন আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান পলাতক, এবং তারা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তার হওয়া একমাত্র আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ইতিমধ্যে নিজের দোষ স্বীকার করে ট্রাইব্যুনালে রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।
যুক্তিতর্কে প্রসিকিউশন শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে। একই সঙ্গে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাইয়ে নিহত পরিবারগুলোর পাশাপাশি আহত “জুলাই যোদ্ধাদের” মধ্যে বিতরণের আবেদন জানিয়েছে।
প্রসিকিউশনের মতে, মামুন অ্যাপ্রুভার হিসেবে “ঘটনার পূর্ণ সত্য” তুলে ধরেছেন এবং তার বিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত দেবেন ট্রাইব্যুনাল।
অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের খালাস চেয়েছেন।
রায়কে কেন্দ্র করে রাজধানীতে পাশাপাশি দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের নজর আজ ট্রাইব্যুনালের দিকে।