মঙ্গলবার
২৫ নভেম্বর ২০২৫
৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো এখতিয়ার নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়া এবং এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা এগিয়ে নেওয়ার সমালোচনা করেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল ও ঢাকার পানগাঁও নৌ টার্মিনালের ইস্যুতে চলমান বিতর্কের মধ্যেই তারেক রহমান এই প্রতিক্রিয়া জানান। “যে সরকারকে জনগণ নির্বাচিত করেনি, তারা ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না”
তারেক রহমান বলেন, “একটি দেশ যেই সরকারকে নির্বাচিত করেনি, সেই সরকার দেশের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিতে পারে না।” তিনি দাবি করেন, এলডিসি থেকে ২০২৬ সালে উত্তরণের সময়সীমা এগিয়ে আনা পুরোপুরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, অথচ এটি নিচ্ছে এমন একটি সরকার যার কোনো গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট নেই।
ফেসবুক পোস্টে তিনি একটি ছোট পোশাক কারখানার মালিকের ব্যবসায়িক সংকট এবং রপ্তানি হ্রাসে শ্রমিকদের জীবনের অনিশ্চয়তার উদাহরণ তুলে ধরেন। তার অভিযোগ—এই সংকটের পেছনে আছে এমন সব সিদ্ধান্ত, যেগুলো নেওয়া হয়েছে জনগণকে কিছু না জানিয়ে।
তারেক রহমান বলেন, সরকার কৌশলগত বিকল্প রাখছে না। দ্রুততা ও অনিবার্যতার অজুহাতে যৌক্তিক প্রশ্ন উপেক্ষা করা হচ্ছে।
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—অ্যাঙ্গোলা ও সামোয়ার মতো দেশের ক্ষেত্রে যেভাবে সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও কেন তা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না?
বন্দরের বিষয়ে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলোকে তিনি ‘জাতীয় সম্পদ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অঙ্গীকার’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মন্তব্য—এ ধরনের সিদ্ধান্ত রুটিন কাজ নয়, এবং সেগুলো নেওয়া উচিত এমন সরকারের, যারা জনগণের কাছে জবাবদিহি করে।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কখনো ভবিষ্যৎ নিয়ে নীরব থাকেনি। তিনি বলেন, “২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দেশের মানুষকে আবারও প্রমাণের সুযোগ দেবে যে এ দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবেন তাঁরাই—যারা এখানে থাকেন এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বিশ্বাস করেন।”