বুধবার
১০ ডিসেম্বর ২০২৫
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পুরুষদের আধিপত্য বেশি, এমন একটি গ্রাম হলো কাটুনায়াকানপট্টি। সেখানকার বাসিন্দা পেতচিয়াম্মা অল্প বয়সেই বিধবা হওয়ার পর গ্রামের মানুষের কটাক্ষ এবং পুরুষদের লালসার চোখে আতঙ্কিত হয়ে উঠেছিলেন।
আরো জানুন: বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে কুচকাওয়াজ
অনলাইন ডেস্ক : পুরুষদের কুনজর থেকে বাঁচতে এই মহিলা শেষ পর্যন্ত নিজের ভোল বদলে ফেলেছিলেন এবং দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে তিনি গ্রামে পুরুষ পরিচয়ে জীবন যাপন করেন। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের কাছে তিনি নিজের জীবন সংগ্রামের এই কাহিনি তুলে ধরেছেন এবং কীভাবে তিনি পেতচিয়াম্মা থেকে মুথু হয়ে উঠেছিলেন, সেই গল্প শুনিয়েছেন
তামিলনাড়ুর কাটুনায়াকানপট্টির বাসিন্দা পেতচিয়াম্মার অল্প বয়সেই বিয়ে হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বিয়ের মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তার স্বামীর মৃত্যু হয়। তখন পেতচিয়াম্মার বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর।
কাটুনায়াকানপট্টি গ্রামে পুরুষদের আধিপত্য বেশি থাকায়, অল্প বয়সে বিধবা হওয়া এই তরুণীর ওপর দ্রুতই গ্রামের পুরুষদের কুনজর পড়তে শুরু করে। গ্রামের মানুষের কটাক্ষ এবং লোলুপ দৃষ্টি তাকে আরও বেশি করে আতঙ্কিত করে তুলেছিল।
তবে সবচেয়ে বেশি ভয় তাকে ঘিরে ধরেছিল সন্তান জন্ম দেওয়ার পর। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে একজন একা মেয়ে কীভাবে সন্তানকে প্রতিপালন করবেন, সেই চিন্তা তাকে নিরন্তর ভাবিয়ে তোলে। এর মধ্যে সংসার টানতে গিয়েও তাকে হিমশিম খেতে হচ্ছিল, কারণ কেউ তাকে কাজ দিতে চাইছিলেন না। বরং গ্রামের পুরুষরা তার শরীরকে ছিঁড়ে খাওয়ার জন্য লালসার দৃষ্টিতে তাকাতেন। সমাজে পদে পদে ঠোক্কর খেতে খেতে শেষমেশ তিনি নিজেকেই বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন।
নিজেকে বদলানোর জন্য তিনি গ্রাম ছেড়ে তিরুচেন্দুর মুরুগান মন্দিরে চলে যান। সেখানে গিয়ে নিজের ভোল পুরোপুরি বদলে ফেলেন। চুল ছাঁটিয়ে, পোশাক বদলে পেতচিয়াম্মা ‘মুথু’ হিসেবে তার নতুন পরিচয় তৈরি করেন। তার রূপ দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে, মুথুই আসলে পেতচিয়াম্মা।
লুঙ্গি আর শার্ট পরে মুথু পরিচয়ে পেতচিয়াম্মা গ্রামে ফেরেন। সেই সময় থেকেই মেয়েকে বড় করার জন্য পুরুষ হিসেবে সমাজের বাঁচার লড়াই শুরু হয় তার। কখনও চায়ের দোকানে, মাঠে, কখনও আবার হোটেলে কাজ করে তিনি সংসার চালানোর পাশাপাশি মেয়েকেও বড় করে তুলছিলেন।
পেতচিয়াম্মা জানান, “দীর্ঘ ২০ বছর ধরে গ্রামে রয়েছি। কাকপক্ষীতেও টের পায়নি যে আমিই সেই পেতচিয়াম্মা। একমাত্র আমার মেয়েই এই গোপন কথাটি জানত।”
এখন সাতান্ন বছর বয়স হয়েছে পেতচিয়াম্মা ওরফে মুথুর। তার মেয়েরও বিয়ে হয়ে গিয়েছে। এই বয়সে পৌঁছেও পেতচিয়াম্মা আর নিজের পুরনো পরিচয়ে ফিরে যেতে চান না। তিনি মুথু পরিচয়েই বেশি খুশি এবং আমৃত্যু মুথু নামেই থাকতে চান।