শনিবার
২০ ডিসেম্বর ২০২৫
২৭শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১লা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে আজ শনিবার (২০ ডিসেম্বর) এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করছে বাংলাদেশ।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত সোয়া ১১টার পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ শোক ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রীয় শোক উপলক্ষে আজ দেশের সব সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
এদিকে, শহীদ ওসমান হাদির জানাজা আজ শনিবার দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের কোনো ধরনের ব্যাগ বা ভারী বস্তু বহন না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
ওসমান হাদির অকাল মৃত্যুতে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। পৃথক শোকবার্তায় তারা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, অন্যায়, অবিচার ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে হাদির আপসহীন অবস্থান গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য প্রেরণার উৎস ছিল।
শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওসমান বিন হাদির মৃত্যু হয়। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৫টা ৫০ মিনিটে লাল-সবুজের কফিনে মোড়ানো তার মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
এর আগে, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছিল।
শরিফ ওসমান হাদি ১৯৯৩ সালে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা একজন মাদ্রাসা শিক্ষক। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি কনিষ্ঠতম।
ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসা থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন। সেখান থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।
ছাত্রজীবন শেষে তিনি শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। একটি স্বনামধন্য কোচিং সেন্টার ও পরবর্তীতে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তিনি এক সন্তানের জনক।