রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মঙ্গলবার

০৬ জানুয়ারি ২০২৬

৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

গভীর সমুদ্রে প্লাস্টিক, জেলিফিশের বিস্তার—বিপদের সতর্কতা প্রধান উপদেষ্টার

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: বঙ্গোপসাগরের তলদেশে প্লাস্টিকের অস্তিত্ব এবং গভীর সমুদ্রে জেলিফিশের অস্বাভাবিক আধিক্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্থলভাগের সমপরিমাণ অঞ্চল জলভাগ হলেও এই বিপুল সামুদ্রিক সম্পদ আমরা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারিনি।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেম বিষয়ক একটি গবেষণা প্রতিবেদন গ্রহণকালে তিনি এসব কথা বলেন।

গবেষণা জাহাজ ‘আরভি ডক্টর ফ্রিডজফ ন্যানসেন’ পরিচালিত এই জরিপ ও গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করে সংশ্লিষ্ট কমিটি। গত বছরের ২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আটটি দেশের ২৫ জন বিজ্ঞানীর সমন্বয়ে এ জরিপ পরিচালিত হয়, যার মধ্যে ১৩ জন ছিলেন বাংলাদেশি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসের অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী বৈঠকে গবেষণার উপাত্ত তুলে ধরেন। তিনি জানান, গবেষণায় ৬৫ প্রজাতির নতুন জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও সামুদ্রিক পরিবেশে গুরুতর ভারসাম্যহীনতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, গভীর সমুদ্রে জেলিফিশের আধিক্য মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে গেছে, যা পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার স্পষ্ট লক্ষণ।

ওভারফিশিংয়ের কারণেই এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও জানান, দুই হাজার মিটার গভীরতাতেও প্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

২০১৮ সালের তুলনায় সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, গভীর সমুদ্রে বড় মাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং স্বল্প গভীরতায়ও মাছের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

বৈঠকে জানানো হয়, গভীর সমুদ্রে ২৭০ থেকে ২৮০টি বড় ট্রলার মাছ আহরণে নিয়োজিত থাকলেও এর মধ্যে প্রায় ৭০টি ট্রলার ‘সোনার’ ব্যবহার করে টার্গেটেড ফিশিং করছে। এ ধরনের আগ্রাসী মাছ ধরার ফলে বড় মাছ ধরা পড়লেও ক্ষুদ্র জেলেরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

এ প্রসঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, এভাবে টার্গেটেড ফিশিং চলতে থাকলে ভবিষ্যতে বঙ্গোপসাগর মাছশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ‘সোনার ফিশিং’ বিষয়ে সরকার শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান তিনি।

তবে গবেষণায় টুনা মাছের আধিক্য ও সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে। পাশাপাশি সুন্দরবনের নিচে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ফিশিং নার্সারি’র সন্ধান পাওয়া গেছে, যা সংরক্ষণের জন্য সরকার নির্দেশ দিয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সামুদ্রিক সম্পদকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে হলে আরও গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি ও কার্যকর নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। বৈঠকে জানানো হয়, যুক্তরাজ্যের রয়েল নেভির একটি বহুমুখী সার্ভে ভেসেল ‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে, যা সমুদ্র গবেষণায় দেশের সক্ষমতা বাড়াবে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও মালদ্বীপের সঙ্গে যৌথ সামুদ্রিক গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বিশেষজ্ঞ জ্ঞানের সমন্বয়ের মাধ্যমেই সামুদ্রিক অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন সম্ভব।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।