রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শুক্রবার

০৯ জানুয়ারি ২০২৬

৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলার পর ট্রাম্পের বক্তব্যে নতুন বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বজুড়ে আগ্রাসী বৈদেশিক নীতি অনুসরণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইন নয়—তার কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করবে কেবল তার ‘নিজস্ব নৈতিকতা’।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই।

আমি মানুষকে আঘাত করতে চাই না।” আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা উচিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি ‘আন্তর্জাতিক আইনের সংজ্ঞা কী’ তার ওপর নির্ভর করে। একই সঙ্গে বৈদেশিক নীতির লক্ষ্য অর্জনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘ব্রুট ফোর্স’ বা কঠোর শক্তি ব্যবহারের ইঙ্গিতও দেন তিনি।

এর আগে গত শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সামরিক হামলা চালায়। রাজধানী কারাকাস ও একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে মার্কিন সেনারা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে। সমালোচকদের মতে, এ ঘটনা জাতিসংঘ সনদের সরাসরি লঙ্ঘন, যেখানে কোনো রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

হামলার পর ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা ‘পরিচালনা’ করবে এবং দেশটির বিশাল তেল সম্পদ কাজে লাগানো হবে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করবে। তবে একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারকে নীতিগত নির্দেশনা দেওয়া হবে এবং মার্কিন দাবি অমান্য করলে দ্বিতীয় দফা সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

গত রোববার দ্য আটলান্টিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, রদ্রিগেজ “সঠিক কাজ না করলে তাকে মাদুরোর চেয়েও বড় মূল্য দিতে হবে।” এর পাশাপাশি চলতি সপ্তাহে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন তিনি এবং ডেনমার্কের স্বশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রচারণাও জোরদার করেন।

এর আগে গত জুনে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশটির তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নির্দেশ দেন ট্রাম্প। এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধংদেহী অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন পশ্চিম গোলার্ধে তার স্বার্থ রক্ষায় নির্বিঘ্নে সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে। সিএনএনকে তিনি বলেন, “আমরা একটি পরাশক্তি, এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে আমরা পরাশক্তির মতোই আচরণ করব।”

তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করার এই প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রসহ পুরো বিশ্বব্যবস্থার জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। জাতিসংঘের বিচারক ও আইনজীবীদের স্বাধীনতা বিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার মার্গারেট স্যাটারথওয়েট বলেন, আন্তর্জাতিক আইন প্রত্যাখ্যান করে দেওয়া এ ধরনের বক্তব্য “অত্যন্ত বিপজ্জনক”।