শনিবার
১০ জানুয়ারি ২০২৬
৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু তা যেন মতবিভেদে রূপ না নেয়—ভবিষ্যৎ সাংবাদিকতায় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সহিংসতা ও প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, হিংসা, প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিণতি কী হতে পারে—তা ৫ আগস্টের ঘটনাতেই দেশবাসী দেখেছে। দলমত নির্বিশেষে মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে হাঁটার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, “আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে; কিন্তু আমরা যদি চেষ্টা করি, তাহলে আলোচনার মাধ্যমে সেই মতপার্থক্যকে মতপার্থক্যের মধ্যেই রাখা সম্ভব। কোনোভাবেই সেটি যেন মতবিভেদের পর্যায়ে না যায়।”
তারেক রহমান বলেন, ১৯৮১ সালের একটি জানাজা, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের একটি জানাজা এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট—এই তিনটি ঘটনা তার জীবনের পাশাপাশি জাতির ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। এসব অভিজ্ঞতা থেকেই স্পষ্ট, ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কোনো কারণ নেই।
দেশে ফেরার পর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে তিনি নতুন প্রজন্মের মধ্যে দিকনির্দেশনা ও আশার আকাঙ্ক্ষা লক্ষ্য করেছেন বলে জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, “শুধু নতুন প্রজন্ম নয়, আমার কাছে মনে হয়েছে—প্রত্যেকটি প্রজন্মই কিছু একটা গাইডেন্স চাইছে। রাজনীতিবিদ হিসেবে সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব না হলেও, সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।”
দেশে প্রায় দেড় কোটি কৃষকের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ২০ কোটি মানুষের খাদ্য জোগান দেওয়া এই বিশাল জনগোষ্ঠীর কথা শোনার সুযোগ খুব কম।
তিনি বলেন, “সাংবাদিকদের কথা শোনার একটি ভেন্যু আছে, কিন্তু কৃষকদের কোনো ভেন্যু নেই। তাদের কথাও আমাদের জানতে হবে।”
তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষা নিশ্চিত করেছিলেন। আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে শিক্ষিত নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, দেশে প্রায় ৪ কোটি পরিবার রয়েছে। এই পরিবারগুলোকে কেন্দ্র করেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
কৃষকদের সহায়তায় ‘কৃষি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান বিএনপি চেয়ারম্যান। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা (প্রিভেনশন) জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, “মানুষকে সচেতন করা গেলে রাষ্ট্রের খরচ কমবে, মানুষও সুস্থ থাকবে। সেই লক্ষ্যেই আমরা হেলথ কেয়ার অ্যাপয়েন্টমেন্ট ব্যবস্থা চালু করতে চাই।”
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ভবিষ্যতে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে এমন সমালোচনা প্রত্যাশা করবেন, যা দেশ পরিচালনায় সহায়ক হবে।
তিনি বলেন, “শুধু সমালোচনার জন্য সমালোচনা নয়—এমন আলোচনা-সমালোচনা চাই, যা দেশের মানুষের সমস্যার সমাধানে আমাদের সাহায্য করবে।”
উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যে দেড় যুগ নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর সপরিবারে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার এক সপ্তাহের মধ্যে তিনি তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে হারান। এর ১০ দিনের মাথায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তাকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়।