রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বুধবার

১৪ জানুয়ারি ২০২৬

৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

১২ ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে: প্রধান উপদেষ্টা

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেও নয়, এক দিন পরেও নয়—১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে।’

মঙ্গলবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আলবার্ট গম্বিস ও মর্স ট্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, তারা দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সাক্ষাৎকালে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া খবর ও পরিকল্পিত বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন আয়োজন এবং ফল ঘোষণার পর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

তিনি বলেন, ‘কে কী বলল, তা বিবেচ্য নয়। নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে।’ নির্বাচনের সময় সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। প্রশাসন থাকবে পক্ষপাতমুক্ত এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে বলে জানান।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকার প্রচার চালাচ্ছে। জনগণের সমর্থনে জুলাই সনদ অনুমোদিত হলে তা গণতান্ত্রিক শাসনের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে এবং ভবিষ্যতে স্বৈরতন্ত্রের কোনো সুযোগ থাকবে না।

নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির অভিযোগ তুলে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, সাবেক স্বৈরাচারী শাসনের সমর্থকেরা ভুয়া খবর ও অপতথ্য ছড়াচ্ছে। তবে জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং এআই-সৃষ্ট বিভ্রান্তিকর ভিডিও শনাক্ত করতে সক্ষম।

বৈঠকে আলোচনায় উঠে আসে জুলাই বিপ্লব ও পরবর্তী পরিস্থিতি, তরুণ আন্দোলনকারীদের উত্থান, জুলাই সনদ ও গণভোট, নির্বাচন ঘিরে অপতথ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং বাংলাদেশে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’ উদ্যোগের সম্ভাবনা।

দুই কূটনীতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ–পরবর্তী সময়ের মতো বাংলাদেশে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’ উদ্যোগ সম্ভব কি না জানতে চাইলে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন উদ্যোগ নেওয়ার উপযুক্ত সময় এখনো আসেনি।

তিনি বলেন, ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন তখনই সম্ভব, যখন ভুল স্বীকার, অনুশোচনা ও অনুতাপ প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এখনো সেই পরিবেশ তৈরি হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে নিহত তরুণদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যদিও বর্বরতার বিপুল প্রমাণ রয়েছে।

বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।