মঙ্গলবার
২০ জানুয়ারি ২০২৬
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ ও থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন।
বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্ধৃত করে প্রেস সচিব বলেন,
“লুট করা অস্ত্র যে করেই হোক, নির্বাচনের আগে যত দ্রুত সম্ভব উদ্ধার করতে হবে।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। মঙ্গলবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে চূড়ান্ত হয়েছে নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রার্থীদের তালিকা। বুধবার প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং পরদিন থেকে প্রার্থীরা প্রচারণায় নামবেন।
নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ করে আসছে। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কয়েকটি দল। কেউ কেউ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর চিন্তাভাবনার কথাও জানিয়েছে বলে সংবাদে এসেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে নিকারের বৈঠকে ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সারাদেশের প্রায় ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬ হাজার ৫৫২টি কেন্দ্রে আগে থেকেই সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে।
তিনি বলেন, অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ২১ হাজার ৯৪৬টি ভোটকেন্দ্রে বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। এ জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্রে প্রতিটিতে কমপক্ষে ছয়টি করে ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। বাকি কেন্দ্রগুলোতে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগ ও অর্থায়নে ক্যামেরা বসানো হবে।
তিনি আরও জানান, গাজীপুর জেলায় মোট ৯৩৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৪৭টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে অধিকাংশ স্থানে সিসিটিভি বসানো হয়েছে এবং বাকি কেন্দ্রগুলোতেও ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হবে।
সারাদেশে ২৯৯টি ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় সেখানে সৌরবিদ্যুৎ ও প্রয়োজনে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশনকে সরকার সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য একটি “সুষ্ঠু, অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর” নির্বাচন আয়োজন করা।
নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি হবে—একদিন আগেও না, একদিন পরেও না, এবং খুব সুন্দরভাবে হবে।”
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ে গঠিত অধিদপ্তরকে ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জননিরাপত্তা বিভাগ ও সুরক্ষা বিভাগ একীভূত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুনর্গঠনের বিষয়েও ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ডিএমপির কাঠামো প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, বর্তমানে ঢাকা মহানগর পুলিশের অধীনে ৫০টি থানা রয়েছে। এই কাঠামো আরও কার্যকর করতে ডিএমপিকে উত্তর ও দক্ষিণসহ একাধিক ভাগে বিভক্ত করা যায় কি না—সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
চট্টগ্রামের জঙ্গল ছলিমপুরে অভিযানের সময় র্যাব কর্মকর্তার নিহত হওয়ার ঘটনায় বাহিনীর মনোবল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি একটি “জঘন্য ঘটনা” এবং এর তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ওই এলাকায় আরও জোরদার অভিযান চালানো হবে। সব বাহিনী মিলে কম্বাইন্ড অপারেশন চালানো হবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে কম্বিং অপারেশন চালানো হবে বলেও জানান তিনি।
বাহিনীর মনোবল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ঘটনা বাহিনীর মনোবল দুর্বল করবে না; বরং তাদের সংকল্প আরও শক্তিশালী করবে।