বুধবার
২১ জানুয়ারি ২০২৬
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। উভয় পক্ষই একে অপরকে ধ্বংস করে দেওয়ার প্রকাশ্য হুমকি দিচ্ছে। ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যের দিকে বিমানবাহী রণতরী সরিয়ে নেওয়ার প্রেক্ষাপটে তেহরান সতর্ক করে জানিয়েছে, নতুন করে কোনো হামলা চালানো হলে তারা হাতে থাকা সবটুকু শক্তি দিয়ে পাল্টা আঘাত হানবে।
মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) দ্য ওয়ালস্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক নিবন্ধে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, এটি কোনো নিছক হুমকি নয়, বরং বাস্তবতা। তিনি উল্লেখ করেন, একটি সর্বাত্মক সংঘাত হবে অত্যন্ত ভয়াবহ এবং তা ইসরায়েল বা তাদের মিত্রদের দেওয়া যেকোনো কাল্পনিক সময়সীমার চেয়েও অনেক দীর্ঘস্থায়ী হবে।
আরাগচির ভাষ্য অনুযায়ী, এমন যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্বের সাধারণ মানুষের জীবনেও মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কড়া বার্তা এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির প্রতিক্রিয়ায়। এর আগের দিন নিউজ নেশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি তাকে হত্যার চেষ্টা করে, তাহলে দেশটিকে ‘পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা হবে’।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জবাবে ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল আবুলফজল শেকারচি বলেন, সর্বোচ্চ নেতার ওপর আঘাতের সামান্যতম ইঙ্গিত পাওয়া গেলে তারা কেবল আক্রমণকারীর হাত কেটে দেবেন না, বরং পুরো অঞ্চলে মার্কিনদের জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয় অবশিষ্ট রাখবেন না।
এই পাল্টাপাল্টি হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো, বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এসব দেশ ট্রাম্পকে হামলা থেকে বিরত থাকার জন্য চাপ দিচ্ছে।
সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ দক্ষিণ চীন সাগর পেরিয়ে মালাক্কা প্রণালী অতিক্রম করে বর্তমানে ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছে। জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, রণতরীটি কয়েক দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছাতে পারে।
যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা রণতরীটির নির্দিষ্ট গন্তব্য নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, তবে ভারত মহাসাগরে এর উপস্থিতিকে তেহরানের জন্য একটি স্পষ্ট সামরিক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কায় ইরান সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছিল।
এদিকে অভ্যন্তরীণভাবেও ইরান চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটিতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, এসব বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৫০০ জনের বেশি নিহত এবং ২৬ হাজারেরও বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তারা নিহতের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার বলে স্বীকার করলেও এসব মৃত্যুর জন্য বিদেশি মদতপুষ্ট ‘সন্ত্রাসীদের’ দায়ী করছেন।
অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও বাইরের সামরিক হুমকির দ্বিমুখী চাপে তেহরান এখন এক অত্যন্ত সংবেদনশীল পরিস্থিতির মুখোমুখি, যা যেকোনো মুহূর্তে একটি বড় আকারের আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।