মঙ্গলবার
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: আজ পবিত্র শবে বরাত। হিজরি শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত এ মহিমান্বিত রজনী মুসলমানরা অত্যন্ত গুরুত্ব ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালন করে থাকেন। পবিত্র শবে বরাতকে লাইলাতুল বরাত বলা হয়, যা মাহে রমজানের আগমনী বার্তাও বহন করে।
গুনাহ থেকে ক্ষমা লাভের এ রজনীকে ভাগ্য নির্ধারণের রাত এবং মুক্তির রজনী হিসেবেও অভিহিত করা হয়। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এ রাতে মহান আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে ক্ষমা, রিযিক বৃদ্ধি ও অসুস্থতা থেকে সুস্থতার সুসংবাদ দিয়ে আহ্বান জানাতে থাকেন এবং ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত এ দয়া অব্যাহত থাকে।
পবিত্র শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য অন্যান্য সাধারণ রাতের তুলনায় অনেক বেশি। এ রাতে দুনিয়াবী ব্যস্ততা—যেমন অহেতুক ঘোরাফেরা, আতশবাজি, পটকা ফুটানো বা বাহুল্যমূলক আয়োজন পরিহার করে আল্লাহ তায়ালার ইবাদতে মশগুল থাকার প্রতি ইসলামি চিন্তাবিদরা গুরুত্বারোপ করেছেন।
নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার, তওবা-ইস্তিগফার এবং একাকী কবর জিয়ারতের মাধ্যমে রাত কাটানো সওয়াবের কাজ বলে মনে করা হয়।
শবে বরাতের পরবর্তী দিনে রোজা রাখাও বড় নেক আমল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “যখন শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাত আসে, তখন তোমরা সে রাতে ইবাদত কর এবং পরের দিনে রোজা রাখো।” (হাদিস)
অন্য হাদিসে বর্ণিত আছে, এ রাতে আল্লাহ তায়ালা প্রথম আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেন—কে আছে ক্ষমা প্রার্থনাকারী, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব; কে আছে সুস্থতা প্রার্থনাকারী, আমি তাকে সুস্থতা দান করব; কে আছে রিযিক প্রার্থনাকারী, আমি তার রিযিকের ব্যবস্থা করে দেব; কে আছে তওবাকারী, আমি তার তওবা কবুল করব।
এ মহিমান্বিত রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া ও মোনাজাতে মগ্ন থাকেন। অনেকেই দান-খয়রাত করেন, রোজা রাখার নিয়ত করেন এবং মা-বাবাসহ আত্মীয়-স্বজনের কবর জিয়ারত করে তাদের জন্য দোয়া করেন। অতীতের গুনাহের ক্ষমা প্রার্থনা, ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ এবং দেশ ও জাতির শান্তি কামনায় মুসলমানরা এ রাতে বিশেষভাবে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন।