বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

মঙ্গলবার

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২০শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

চট্টগ্রাম বন্দর অচল—এনসিটি ইস্যুতে লাগাতার কর্মবিরতি ঘোষণা

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের লাগাতার কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন শ্রমিক-কর্মচারী সংগঠনের নেতারা। আগামীকাল বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে এই কর্মসূচি কার্যকর হবে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বন্দর এলাকায় আয়োজিত এক অবরোধ কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেন চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন।

ইব্রাহিম খোকন বলেন, “নৌ-উপদেষ্টা আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের বদলি করা হচ্ছে, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তির কথা বলা হচ্ছে। এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আমরা আগামীকাল সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যাচ্ছি। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে।”

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। এর ফলে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে—এনসিটি জেটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা না দেওয়া, চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ, আন্দোলন ঘিরে দেওয়া সব বদলির আদেশ বাতিল।

বর্তমানে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও জেনারেল কার্গো বার্থসহ বন্দরের সব টার্মিনালেই অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

স্কপের যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল জানান, কর্মবিরতির কারণে কনটেইনার ও সাধারণ পণ্য ওঠানামা পুরোপুরি বন্ধ থাকায় বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ। সমাবেশ শেষে মিছিলটি বন্দর অভিমুখে গেলে পুলিশ বাধা দেয়।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির অভিযোগ করেন, “সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে কর্তৃপক্ষ উল্টো দমন-পীড়ন ও বদলির মাধ্যমে আন্দোলন দমন করতে চাইছে।”

চার দিন ধরে জেটিতে জাহাজ অপেক্ষমাণ থাকায় এবং পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিজিএমইএর সহসভাপতি সেলিমুর রহমান বলেন, “এই অচলাবস্থার কারণে আমদানি ব্যয় বাড়ছে এবং পোশাক খাতের রপ্তানি শিডিউল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।”