শুক্রবার
০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, এখন ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা ছাড়া আর কোনো প্রস্তুতি বাকি নেই।
গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসি আনোয়ারুল বলেন, “আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। কিছু আসনে এখনও ব্যালট পেপার পাঠানো হয়নি, তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তা পৌঁছে যাবে।”
নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এত বড় পরিসরে বাহিনী মোতায়েন এর আগে কখনো দেখা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এখন পর্যন্ত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় কোনো সমস্যা হয়নি বলেও জানান এই নির্বাচন কমিশনার।
ভোটার উপস্থিতি প্রসঙ্গে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৫৫ শতাংশের কম বা বেশি হতে পারে বলে তার ধারণা।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, দেশের ১১৬টি সংসদীয় আসনে ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট পেপার পৌঁছে গেছে। বাকি সব আসনে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়া হবে।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশে শেষ মুহূর্তে কয়েকজন প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় কিছু আসনে ব্যালট পুনর্মুদ্রণ করতে হয়েছে। এ কারণে কিছুটা বিলম্ব হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব আসনে ব্যালট পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সেনাবাহিনী, আনসার ও ম্যাজিস্ট্রেট
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে আখতার আহমেদ জানান—
নির্বাচন আগে ও পরে মোট ৭ দিন সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে
৮ দিন আনসার বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে
পুলিশ ইতোমধ্যেই মাঠে রয়েছে
১,০৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ৮–১৪ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব পালন করবেন
একই সময় বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটরাও মাঠে থাকবেন
ভোটার ও প্রার্থীর পরিসংখ্যান
ইসি সূত্র জানায়, এবারের সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে—
পুরুষ ভোটার: ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন
নারী ভোটার: ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন
হিজড়া ভোটার: ১ হাজার ২৩২ জন
ভোটার সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে কম ভোটার রয়েছে ঝালকাঠি-১ আসনে (২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন) এবং সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছে গাজীপুর-২ আসনে (৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন)।
প্রার্থী ও দলীয় অংশগ্রহণ
৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে।
নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে— সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি (২৮৮ জন), নিবন্ধিত ৯টি রাজনৈতিক দল কোনো প্রার্থী দেয়নি, স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন আড়াই শতাধিক।
ঢাকা-১২ আসনে সবচেয়ে বেশি ১৫ জন প্রার্থী এবং পিরোজপুর-১ আসনে সবচেয়ে কম ২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সারা দেশে ভোটগ্রহণ হবে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে, যেখানে মোট ভোটকক্ষের সংখ্যা ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি।
নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন। পাশাপাশি প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন।
পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নেবেন—৮১টি দেশি সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক, এর মধ্যে ৭ হাজার ৯৯৭ জন কেন্দ্রীয় এবং ৪৭ হাজার ৪৫৭ জন স্থানীয় পর্যায়ে। এছাড়া প্রায় ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।