রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বুধবার

১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

একসঙ্গে সংসদ ও গণভোট, ভোটগ্রহণ চলবে ৯ ঘণ্টা

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ৯ ঘণ্টা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হওয়ায় এবার ভোটগ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ভোট ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে। একদিনে দুটি ভোট আয়োজনের কারণে বাড়তি সময় প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসি।

নির্বাচন কমিশনের মতে, এবারের নির্বাচন ও গণভোটে ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন তরুণ ভোটাররা। ৩৫ বছরের নিচে ভোটারের সংখ্যা ৪ কোটি ৯০ লাখ ৪৩ হাজার ৫৬১ জন।

এরমধ্যে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী ভোটার রয়েছেন ২ কোটি ১২ লাখ ৪২ হাজার ৫৩১ জন এবং ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ভোটার রয়েছেন ১ কোটি ৭৮ লাখ ১ হাজার ৩০ জন। এই বয়সসীমার ভোটারদের মধ্যে পুরুষ, নারী ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য বলে জানিয়েছে ইসি।

এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার এক হাজার ২৩২ জন। দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে, যা পরবর্তীতে নতুন তফসিল অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।

সারা দেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে, যার মধ্যে ২১ হাজার ৫০৬টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোট পরিচালনার জন্য ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন।

এদের মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার রয়েছেন। ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই বিভাগীয় কমিশনার, ৬৪ জন জেলা প্রশাসক এবং তিনজন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি ৫৯৮ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাঠে কাজ করছেন।

এবারের নির্বাচনে ২৯৯ আসনে মোট প্রার্থী সংখ্যা দুই হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী এক হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন এবং পুরুষ প্রার্থী রয়েছেন এক হাজার ৯৪৬ জন। নির্বাচনে ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশ নিচ্ছে।

ভোটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, পুলিশ, র‍্যাব, আনসার ও বিএনসিসির সদস্যরা ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন।

পাশাপাশি নির্বাচনি অপরাধ দমনে বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় ইতোমধ্যে প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে জরিমানাও আদায় করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকরা এরই মধ্যে দেশে এসে পৌঁছেছেন। পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক দেশি পর্যবেক্ষকও ভোট পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবেন। সব মিলিয়ে বাড়তি সময়, কঠোর নিরাপত্তা ও ব্যাপক প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট।