বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বুধবার

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১২ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

হালিশহরের গ্যাস বিস্ফোরণ—পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু, আশঙ্কাজনক চারজন

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: চট্টগ্রামের হালিশহরে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধদের মধ্যে একে একে পরিবারের চার সদস্যের পর গৃহকর্তা সাখাওয়াত হোসেনও মারা গেছেন। ৪৯ বছর বয়সী সাখাওয়াতের শরীর শতভাগ দগ্ধ হয়েছিল।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ১১টার দিকে ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যাপক শাওন বিন রহমান।

গ্যাস বিস্ফোরণের দিন সোমবার উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে সাখাওয়াতের স্ত্রী ৪০ বছর বয়সী নুরজাহান আক্তার রানী মারা যান।

পরদিন মঙ্গলবার সকাল ৭টায় তাদের ১৬ বছর বয়সী ছেলে শাওন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

এর কয়েক ঘণ্টা পর দুপুর ১২টার দিকে সাখাওয়াতের ছোট ভাই ৪০ বছর বয়সী সামির আহমেদের মৃত্যু হয়। একই দিন রাত পৌনে ১১টার দিকে মারা যান সামিরের স্ত্রী ৩০ বছর বয়সী আশুরা আক্তার পাখি।

সবশেষ বুধবার মারা গেলেন সাখাওয়াত হোসেন। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের পরিবারের পাঁচজনের প্রাণহানি হলো।

দগ্ধ বাকি চারজন—সাখাওয়াতের মেয়ে উম্মে আইমান স্নিগ্ধা (১০), সামিরের সন্তান আয়েশা (৪) ও ফারহান আহমেদ আনাছ (৬), এবং সাখাওয়াতের আরেক ভাই শিপন হোসাইন (৩১)—এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

চিকিৎসকরা জানান, শিপনের শরীরের ৮০ শতাংশ, আইমানের ৩৮ শতাংশ, আনাছের ৩০ শতাংশ এবং আয়েশার ৪৫ শতাংশ পুড়েছে।

সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হালিশহর এইচ ব্লকের ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামের ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে যায়।

প্রতিবেশীরা জানান, সেহরির সময় রান্নাঘরে আগুন ধরানোর মুহূর্তেই বিস্ফোরণ ঘটে। শরীরে আগুন নিয়ে পরিবারের সদস্যরা একে একে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

পেশায় গ্যারেজ মালিক সাখাওয়াত প্রায় দেড় বছর আগে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন। তার ছোট ভাই পরিবারসহ কয়েকদিন আগে সেখানে বেড়াতে এসেছিলেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, রান্নাঘরে গ্যাস জমে থাকায় চুলায় আগুন ধরানোর সময় বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়।