বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রবিবার

০১ মার্চ ২০২৬

৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১২ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

যাকাতের মাধ্যমে বৈষম্য দূর করতে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করলেন জেলা প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে রোববার (১ মার্চ) সকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ইসলামী অর্থনীতিতে যাকাতের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার। এতে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

যাকাত ফান্ডের অর্থ সংগ্রহ ও সুষ্ঠু বিতরণ নিয়ে আলোচনা চলাকালে জেলা প্রশাসক বলেন, “যাকাত নিজ থেকে শুরু করতে হবে।” বক্তব্যের মাঝেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে ৫ হাজার টাকা জাকাত প্রদান করে উপস্থিতদের সামনে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন এবং সবাইকে যাকাত আদায়ে উদ্বুদ্ধ করেন।

তিনি বলেন, “যাকাত গরিবের হক—এই বার্তা সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে হবে। নামাজের প্রতি আমরা যতটা দায়িত্বশীল, জাকাতের ক্ষেত্রেও সেই দায়িত্ববোধ দেখাতে হবে। যাকাতের মাধ্যমে বৈষম্য দূর করা সম্ভব এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়। এজন্য যাকাত সম্পর্কে মানুষকে আরও সচেতন করতে হবে।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, যাকাত সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করে এবং বৈষম্য দূর করে। ইসলামে নামাজের পরই যাকাতের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনের বহু স্থানে নামাজের পাশাপাশি জাকাত আদায়ের নির্দেশনা রয়েছে।

যাকাত বোর্ডের সদস্য ড. মোহাম্মদ শহীদুল হক বলেন, যাকাত দাতার মনকে ধনসম্পদের লোভ থেকে মুক্ত ও পবিত্র করে। একই সঙ্গে এটি প্রতিষ্ঠা করে যে, ধনীদের সম্পদে দরিদ্রদের অধিকার রয়েছে।

এবার চট্টগ্রাম জেলায় মোট যাকাত আদায় হয়েছে ১ কোটি ১৫ লাখ ১৪ হাজার ২১৬ টাকা। এর মধ্যে বিতরণ করা হবে ৯২ লাখ ১১ হাজার ৩৭২ টাকা। জনসংখ্যা অনুপাতে ১০ হাজার টাকা করে ৯২১ জন উপকারভোগীর মাঝে এ অর্থ প্রদান করা হবে। জেলার ১৬টি উপজেলা ও মহানগরের ৬টি জোনে যাকাত বিতরণ করা হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-পরিচালক ফাহমিদা বেগম-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় পরিচালক ছারোয়ার আলম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ঢাকার পরিচালক মোহাম্মদ তোহিদুল ইসলাম। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মুফতি হুমায়ুন কবির।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, যাকাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।