রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বুধবার

০৪ মার্চ ২০২৬

৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

রাডার ফাঁকি দিয়ে হামলা — ইরানের কৌশলে চাপে মিত্ররা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেন যুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া ইরানের ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোন এখন মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে নতুন আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্যা গার্ডিয়ান–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে শত শত ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানের তৈরি ডেল্টা-উইং ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোনের দাম আনুমানিক ৫০ হাজার ডলার। তুলনামূলকভাবে কম খরচে তৈরি হলেও এটি প্রায় ৫০ কেজি বিস্ফোরক বহনে সক্ষম। প্রায় সাড়ে ৩ মিটার দীর্ঘ এই ড্রোনের ডানার বিস্তার আড়াই মিটার এবং এর পাল্লা প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। রাডার ফাঁকি দিতে নিচু দিয়ে উড়তে সক্ষম হওয়ায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এগুলো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, সোমবার তাদের ওপর ৬৮৯টি ড্রোন হামলা চালানো হয়, যার মধ্যে ৬৪৫টি ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে। তবে কিছু ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করে ভেতরে ঢুকে পড়ে। বাহরাইনের এক ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ড্রোন বহুতল ভবনে আঘাত হানলে আগুনের ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে।

আরেকটি ভিডিওতে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটির রাডার ডোমে আঘাতের দৃশ্য দেখা গেছে। পাশাপাশি কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সাইপ্রাসের আক্রোতিরিতে অবস্থিত ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) ঘাঁটিতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোন ডিজাইন করেছে শাহেদ এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিজ রিসার্চ সেন্টার। ২০২১ সালে প্রথম প্রকাশ্যে আসা এই ড্রোন ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পায়। পরে ইরান এর নকশা রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করে এবং ভলগা নদীর তীরে ইলাবুগা কারখানায় এগুলোর উৎপাদন শুরু হয়।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় কম ব্যয়বহুল হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতেও ইরান এই ড্রোন ব্যবহার অব্যাহত রাখতে পারবে। ইউক্রেনে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার মাধ্যমে বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছিল এই ড্রোন। একই কৌশল উপসাগরীয় অঞ্চলেও প্রয়োগ করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সোমবার সৌদি আরবের রাস তানুরা শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং স্থাপনাটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনটি ‘শাহেদ’ কি না তা নিশ্চিত না হলেও এর বিস্ফোরক প্রভাব একই ধরনের ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।