শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

বৃহস্পতিবার

০৫ মার্চ ২০২৬

২২শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

অধিকাংশ পুলিশ সদস্যের মত পুরোনো পোশাকের পক্ষে

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: আগের গাঢ় নীল (নেভি ব্লু শার্ট-প্যান্ট) পোশাকে ফিরতে চান অধিকাংশ পুলিশ সদস্য। ১ লাখ ৪ হাজার ৯১৩ জন সদস্য আগের পোশাকের পক্ষে মত দিয়েছেন। বিপরীতে বর্তমানের লৌহ (আয়রন) রঙের শার্ট ও কফি (শেল) প্যান্ট পরতে আগ্রহ দেখিয়েছেন মাত্র ৯১১ জন।

বুধবার (৪ মার্চ) পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পুলিশ-এ বর্তমানে ২ লাখ ১২ হাজার সদস্য কর্মরত। গত সোম ও মঙ্গলবার দেশের ৬৪ জেলায় পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে কল্যাণ প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা পুলিশ, রেঞ্জ ও পুলিশ সদর দপ্তর মিলিয়ে ১ লাখ ৮ হাজার ৬৪১ জন সদস্য অংশ নেন। লিখিত ফর্মে পোশাক নিয়ে তাদের হ্যাঁ/না মতামত নেওয়া হয়।

মতামত বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৯৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ সদস্য আগের নেভি ব্লু শার্ট-প্যান্ট এবং মহানগর এলাকায় সবুজ (গ্রিন) শার্ট ও গাঢ় প্যান্টের পক্ষে। অন্য রঙের পোশাক চান ২ হাজার ৮১৭ জন, যা শতকরা ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করার পর পুলিশের আগের পোশাক নিয়ে আলোচনা নতুন করে শুরু হয়।

বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে পুলিশ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন—পোশাক পরিবর্তন করলে মানসিক পরিবর্তন হবে কি না।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে জানায়, ২০০৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারির প্রজ্ঞাপন ও ১০ ফেব্রুয়ারির গেজেটের মাধ্যমে তৎকালীন সরকার দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে আগের পোশাক নির্ধারণ করেছিল। সে সময় আবহাওয়া, দিন-রাতে দায়িত্ব পালনের সুবিধা, দৃশ্যমানতা, সদস্যদের গায়ের রং এবং অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সাদৃশ্য না থাকা—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল।

বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচিত নতুন পোশাকে সদস্যদের মতামত ও বাস্তব পরিস্থিতি উপেক্ষা করা হয়েছে। একই ধরনের ইউনিফর্মধারী অন্য সংস্থার পোশাকের সঙ্গে সাদৃশ্য থাকায় মাঠপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।