মঙ্গলবার
১০ মার্চ ২০২৬
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: দেশের নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর বনানী এলাকার কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের আগে অনুষ্ঠানে কয়েকজন নারীর হাতে প্রতীকীভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী জুবাইদা রহমান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। তিনি বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড আজ স্বপ্ন নয়, এটি এখন সবার দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড একটি ভরসা ও আস্থার নাম।”
‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় সরকার উপকারভোগী পরিবারগুলোকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা দেবে। এই ভাতা উপকারভোগীদের পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট অথবা ব্যাংক হিসাবে সরাসরি জমা হবে, ফলে ঘরে বসেই তারা এই সহায়তা গ্রহণ করতে পারবেন।
সরকার জানিয়েছে, পরীক্ষামূলকভাবে কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের জন্য আগামী জুন পর্যন্ত চার মাসের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
পাইলট প্রকল্পে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে সফটওয়্যারের মাধ্যমে দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণ করে পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্নমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
এর মধ্যে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত হিসেবে চিহ্নিত ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য যাচাই করে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি সঠিক পাওয়া যায়। পরবর্তীতে একাধিক ভাতা গ্রহণ, সরকারি চাকরি বা পেনশনভোগী থাকা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান যদি অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পান, তবে সেই সুবিধা বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা চলমান ভাতা পেতে পারবেন।
এ ছাড়া কোনো পরিবারের সদস্য যদি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হন, পেনশন পান, কিংবা নারী পরিবারপ্রধান এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মচারী হন, তাহলে ওই পরিবার এই ভাতার জন্য যোগ্য হবে না।
পাশাপাশি কোনো পরিবারের নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্স, বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বিলাসবহুল সম্পদ—যেমন গাড়ি বা এসি—থাকলে কিংবা পাঁচ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলেও তারা এই সুবিধা পাবেন না।
সরকার জানিয়েছে, ভাতাভোগী নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। পরীক্ষামূলক প্রকল্প সফল হলে পরবর্তীতে হতদরিদ্র পুরুষপ্রধান পরিবারকেও এই ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন-এর বরাতে বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডকে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’-এ রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড সংক্রান্ত অভিযোগ বা অনিয়ম জানাতে শিগগিরই একটি হটলাইন চালু করা হবে। পূর্ণাঙ্গ হটলাইন চালুর আগ পর্যন্ত সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিদ্যমান ‘চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮’-এ কল করে সংশ্লিষ্ট অভিযোগ জানানো যাবে।