বুধবার
১১ মার্চ ২০২৬
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগরে পৃথক অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ গ্রুপের তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। এ সময় বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
সিএমপি সূত্র জানায়, পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ, বিপিএম এর নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে গত ১০ মার্চ দিবাগত রাতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চকবাজার থানা পুলিশ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী মো. আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ওরফে রিমন ওরফে ইমনকে গ্রেফতার করে। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে চকবাজার এলাকা থেকে একটি বিদেশি রিভলভার (থ্রি টু বোর) ও ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি সিএমপির পাহাড়তলী থানা থেকে লুণ্ঠিত হয়েছিল বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পুলিশ জানায়, রিমন বহদ্দারহাটে সংঘটিত আলোচিত আট হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচলাইশ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মনির নামের আরেক সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়।
এ সময় তার কাছ থেকে একটি ব্রাজিলিয়ান টরাস (নাইন এমএম) পিস্তল ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পিস্তলটি সিএমপির ডবলমুরিং থানা থেকে লুণ্ঠিত হয়েছিল বলে জানা গেছে।
পরে মনিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে সায়েম নামের আরও এক সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেখানো মতে খুলশী এলাকা থেকে একটি এসএমজি, দুটি ম্যাগাজিন ও ৫০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এসব অস্ত্র খাগড়াছড়ির পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার হওয়া আসামিদের বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। তারা সবাই বড় সাজ্জাদ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য এবং বিভিন্ন সশস্ত্র অপরাধে জড়িত।
এদিকে পবিত্র মাহে রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ডিবি (পশ্চিম) পুলিশের বিশেষ অভিযানে কোতোয়ালী থানা এলাকা থেকে পেশাদার ছিনতাইকারী চক্রের তিন সদস্য—মারুফ হোসেন তুষার, মো. বাবু ও মেহেদী হাসানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি ধামা ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়।
সিএমপি জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের সহযোগীদের গ্রেফতার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।