বুধবার
১১ মার্চ ২০২৬
১২ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৬ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


নিউজ ডেস্ক: রমজান মাস ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের এক অনন্য সময়। এই মাসে সেহরি ও ইফতারকে কেন্দ্র করে মুসলমানদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বিশেষ পরিবর্তন আসে। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—রাত ১২টার পর সেহরি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে রোজা হবে কি না।
ইসলামে প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেক মুসলিমের জন্য রোজা রাখা ফরজ। পবিত্র কুরআন-এ বলা হয়েছে—
“হে ইমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।” (সুরা আল-বাকারা: ১৮৩)
রোজার ফজিলত সম্পর্কে আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক হাদিসে মুহাম্মদ (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন— “আদম সন্তানের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য; কিন্তু সিয়াম আমার জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব।” (সহিহ মুসলিম)
রোজা রাখার শক্তি জোগাতে সেহরির গুরুত্বও ইসলামে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন—“তোমরা সেহরি খাও, কারণ সেহরিতে বরকত রয়েছে।” (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
এ বিষয়ে ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, রাত ১২টার পর সেহরি খেতেই হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এমনকি কেউ সেহরি না খেলেও তার রোজা সহিহ হবে। তবে সুন্নত অনুযায়ী সেহরি খাওয়ার উত্তম সময় হলো রাতের শেষ অংশ।
এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন—“আমার উম্মত ততদিন কল্যাণের ওপর থাকবে, যতদিন তারা দ্রুত ইফতার করবে এবং দেরিতে সেহরি করবে।” (সহিহ বুখারি)
তবে দেরিতে সেহরি করার অর্থ এই নয় যে ফজরের আজানের পর পর্যন্ত খাওয়া যাবে। বরং সুবহে সাদিক বা ফজরের সময় শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত সেহরি খাওয়া বৈধ।
সব মিলিয়ে বলা যায়, রাত ১২টার পর সেহরি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে রোজা নষ্ট হয় না। তবে সুন্নত অনুযায়ী রাতের শেষ অংশে সেহরি করা উত্তম এবং ফজরের সময় শুরু হওয়ার আগেই খাওয়া বন্ধ করা জরুরি। তাই রমজানে সঠিক সময় জেনে সেহরি করা এবং রোজার মূল উদ্দেশ্য—তাকওয়া অর্জনের দিকেই মনোযোগ দেওয়া একজন মুমিনের জন্য সর্বোত্তম পথ।