শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

শনিবার

২১ মার্চ ২০২৬

২১শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

প্রার্থনা, কোলাকুলি আর খুশির ঢেউ—চট্টগ্রামে ঈদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: নগরের বিভিন্ন মসজিদ ও ঈদগাহে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল থেকেই মুসল্লিরা দলে দলে সমবেত হন বিভিন্ন ঈদগাহ ও মসজিদে। নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেন তারা।

নগরের অন্যতম প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে। এখানে প্রথম ও প্রধান জামাত সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথম জামাতে ইমামতি করেন খতিব হযরতুল আল্লামা সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আল কাদেরী এবং দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করেন সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আহমদুল হক আল কাদেরী।

ঈদের নামাজ শেষে খুতবায় দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করা হয়। পাশাপাশি সাম্য, ভ্রাতৃত্ববোধ, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় এবং দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

জামাতে অংশ নেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, এমপি মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, এরশাদ উল্লাহ, সাঈদ আল নোমান, সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, সোলায়মান আলম শেঠসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এছাড়া কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত কমিটির উদ্যোগে এম এ আজিজ স্টেডিয়াম জিমনেশিয়াম মাঠ প্রাঙ্গণে সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসার সাবেক প্রিন্সিপাল হযরত মাওলানা অধ্যক্ষ ড. সাইয়েদ মুহাম্মদ আবু নোমান।

ঈদ জামাত কমিটির উদ্যোগে নগরের প্রায় ৯০টি স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে সকাল ৮টায় লালদীঘি শাহী জামে মসজিদ, হযরত শেখ ফরিদ (র.) চশমা ঈদগাহ মসজিদ, চকবাজার সিটি করপোরেশন জামে মসজিদ, জহুর হকার্স মার্কেট জামে মসজিদ, দক্ষিণ খুলশী আবাসিক এলাকা জামে মসজিদসহ নগরের বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

নিরাপত্তা নিশ্চিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ এলাকায় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে। পাশাপাশি নগরজুড়ে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিশেষ টহল জোরদার করা হয়েছে।

খুতবায় বলা হয়, আল্লাহর দরবারে নত হওয়া মানে শুধু শরীরকে সেজদায় রাখা নয়; বরং নিজের অন্তরকে সম্পূর্ণভাবে বিনম্র করে দেওয়া। মানুষ যখন অহংকার, হিংসা ও সব দুর্বলতা ত্যাগ করে একান্তভাবে স্রষ্টার সামনে দাঁড়ায়, তখনই ইবাদতের প্রকৃত সৌন্দর্য প্রকাশ পায়।

ঈদের নামাজ শেষে মুসল্লিরা জানান, এই দিনে ধনী-গরিব, ছোট-বড় সব ভেদাভেদ ভুলে সবাই এক কাতারে দাঁড়ায়। এই সেজদা মানুষকে শেখায়—সবাই আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর কাছেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তাই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সত্য, ন্যায় ও মানবতার পথে চলার অঙ্গীকার করা উচিত।