বৃহস্পতিবার
০৯ এপ্রিল ২০২৬
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সৃষ্টি হয়েছে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী-এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনাল থেকে বের হওয়ার সময় আসামিরা পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন।
এ সময় তারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বলেন, “আমরা এ রায় মানি না, আমাদের ফাঁসানো হয়েছে, আমরা নির্দোষ।”
জুলাই অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে হওয়া এই মামলায় মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন চাকরিচ্যুত এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন। এছাড়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ৩০ আসামির মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন, যাদের আদালতে হাজির করা হয়। বাকি ২৪ জন পলাতক।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন আবু সাঈদ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং আন্দোলনের গতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এই মামলার রায় ঘোষণা করা হলো, যা দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত বিচার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।