মঙ্গলবার
১৪ এপ্রিল ২০২৬
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন আজ পহেলা বৈশাখ। ১৪৩২ সালকে বিদায় জানিয়ে নতুন আশা, সম্ভাবনা ও প্রত্যয়ের বার্তা নিয়ে শুরু হলো বাংলা সন ১৪৩৩। বাঙালির প্রাণের এই উৎসবকে ঘিরে দেশজুড়ে সাজ সাজ রব, বর্ণিল আয়োজন আর আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
রাজধানীসহ সারাদেশে নববর্ষ উদযাপনে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে আয়োজিত মঙ্গল শোভাযাত্রা ঘিরে রয়েছে বাড়তি আগ্রহ। এবারের শোভাযাত্রার স্লোগান—‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। লোকজ ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক প্রতীক নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেবে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
হাজার বছরের ঐতিহ্য ও বাঙালির আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা পহেলা বৈশাখ কেবল একটি উৎসব নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয়, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতীক। গ্রাম থেকে নগর—সবখানেই বৈশাখী মেলা, পান্তা-ইলিশ, নাগরদোলা আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুখর হয়ে ওঠে জনপদ।
রমনার বটমূলে বরাবরের মতো আয়োজন করেছে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট। ‘শান্তি, মানবতা ও সম্প্রীতি’ প্রতিপাদ্যে সম্মিলিত কণ্ঠে বর্ষবরণের গান পরিবেশন করবেন শিল্পীরা।
এছাড়া তোপখানা রোডে উদীচীর আয়োজন, ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ‘হাজারও কণ্ঠে বর্ষবরণ’সহ বিভিন্ন আয়োজন থাকবে দিনব্যাপী।
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, মোগল সম্রাট আকবরের আমলে কৃষি ও খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে বাংলা সনের প্রবর্তন হয়। ফসলি মৌসুমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি এই বর্ষপঞ্জি ধীরে ধীরে বাঙালির জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে।
একসময় পহেলা বৈশাখ মানেই ছিল ব্যবসায়ীদের ‘হালখাতা’ উৎসব—পুরোনো হিসাব চুকিয়ে নতুন খাতা খোলার আনন্দঘন আয়োজন। আধুনিকতার ছোঁয়ায় এর রূপ বদলালেও ঐতিহ্য হিসেবে এখনও অনেক জায়গায় তা টিকে আছে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তারা নববর্ষে ঐক্য, সম্প্রীতি, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও ঐক্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নববর্ষ আমাদের নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়। বিরোধীদলীয় নেতাও দেশ ও জাতির কল্যাণে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
বর্তমান বিশ্ব যখন নানা সংকট ও সংঘাতে বিপর্যস্ত, তখন শান্তি, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন নেতারা।
প্রযুক্তিনির্ভর এই আধুনিক যুগেও পহেলা বৈশাখ হারায়নি তার আবেদন। দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত বাঙালিরাও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপন করছেন বাংলা নববর্ষ।
নতুন বছরের এই প্রথম প্রভাতে প্রত্যাশা—সব গ্লানি, দুঃখ ও হতাশা পেছনে ফেলে নতুন আশায় এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। নববর্ষ বয়ে আনুক সবার জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।