শুক্রবার
১৭ এপ্রিল ২০২৬
৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: দেশের ইতিহাসে বর্তমানে সর্বোচ্চ পরিমাণ জ্বালানি মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় অবস্থিত ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এপ্রিল ও মে মাসের জন্য দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং জুন মাসের সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় আগাম প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি আরও জানান, ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৯ সাল থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইআরএলে ক্রুড অয়েলের সংকটে পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সর্বশেষ গত ১৩ এপ্রিল সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম চালানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রভাবে প্রায় দুই মাস ধরে অপরিশোধিত তেল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। সর্বশেষ চালান আসে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এবং নতুন চালান মে মাসের শুরুতে আসতে পারে।
ইআরএলের কর্মকর্তারা জানান, মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) পাইপলাইন ও ট্যাংকের তলানিতে থাকা তেল ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। তবে মূল মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ইআরএল প্রতিদিন গড়ে ৪ হাজার ৫০০ টন ক্রুড তেল পরিশোধন করে। সংকটের কারণে তা কমিয়ে ৩ হাজার ৫০০ টনে নামানো হয়েছিল। দেশে বছরে প্রায় ৬৮ থেকে ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়, যার একটি অংশ ইআরএলে পরিশোধন করা হয় এবং বাকিটা বিদেশ থেকে পরিশোধিত অবস্থায় আনা হয়।