শুক্রবার
২৪ এপ্রিল ২০২৬
১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাংলাদেশে হাম সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি বর্তমান পরিস্থিতিকে জাতীয়ভাবে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায় হাম ছড়িয়ে পড়েছে। বিপুলসংখ্যক শিশুর আক্রান্ত হওয়া, টিকাদানের ঘাটতি এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা বাড়ায় এ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এর আগে গত ৪ এপ্রিল বাংলাদেশের জাতীয় আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধি (আইএইচআর) ফোকাল পয়েন্ট ডব্লিউএইচওকে জানায়, দেশে হাম রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে এবং সংক্রমণ চলমান রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকেই এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্পষ্ট।
জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় হামকে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণা করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ১৯ হাজার ১৬১ জন সন্দেহভাজন হাম রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত রোগী ২ হাজার ৮৯৭ জন, যদিও বিস্তারিত অংশে এই সংখ্যা ২ হাজার ৯৭৩ উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়। এতে মৃত্যুহার (সিএফআর) দাঁড়িয়েছে ০ দশমিক ৯ শতাংশ। পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম-সম্পর্কিত মৃত্যু হয়েছে ৩০ জনের, যেখানে মৃত্যুহার ১ দশমিক ১ শতাংশ।
এ সময়ের মধ্যে ১২ হাজার ৩১৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ৯ হাজার ৭৭২ জন চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হাসপাতালে যাওয়া রোগীদের অধিকাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, যার হার ৭৯ শতাংশ। এর মধ্যে দুই বছরের কম বয়সী শিশু ৬৬ শতাংশ এবং ৯ মাসের কম বয়সী শিশু ৩৩ শতাংশ।
মৃত্যুবরণকারী ১৬৬ শিশুর বেশিরভাগই টিকা না পাওয়া দুই বছরের কম বয়সী বলে জানা গেছে। সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে ঢাকা বিভাগ-এ, বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকাগুলোতে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।