সোমবার
২৭ এপ্রিল ২০২৬
১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: যশোরের শার্শা উপজেলায় উন্নয়ন কর্মসূচি উদ্বোধন ও জনসভায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারীদের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, দেশের মেয়েদের ডিগ্রি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জীবনমান সহজ করতে চালু করা হবে ‘এলপিজি কার্ড’।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে উলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী—তাদের শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগে স্কুল ও ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ে অবৈতনিক শিক্ষার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেটিকে আরও বিস্তৃত করে ডিগ্রি পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও থাকবে।
তিনি বলেন, শুধু শিক্ষা নয়, নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতেও সরকার কাজ করছে। ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম চালু হয়েছে, যার মাধ্যমে পরিবারপ্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় চালু করা হবে ‘এলপিজি কার্ড’, যাতে রান্নার জ্বালানি সহজলভ্য হয় এবং নারীদের দৈনন্দিন কষ্ট কমে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে উন্নয়ন কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। জনগণকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে সরকারের বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি ব্যাহত হবে।
এদিন তিনি উলশী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এলাকার প্রায় ২০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন বলে জানান তিনি। এতে অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উৎপাদন বাড়বে এবং প্রায় ৭২ হাজার মানুষ উপকার পাবে। খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল পুনঃখননের ফলে কৃষিকাজ সহজ হবে, পানির প্রবাহ বাড়বে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা হবে। হাঁস-মুরগি পালনসহ ছোট উদ্যোগের মাধ্যমে নারীদের আয় বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হবে।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং অন্যান্য মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।