রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বৃহস্পতিবার

৩০ এপ্রিল ২০২৬

৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিতর্ক অশোভন, সংবিধান সংস্কারে ‘ফ্রডুলেন্ট’ প্রক্রিয়ার অভিযোগ

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বারবার বিতর্ক সৃষ্টি করা জাতির জন্য সম্মানজনক নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের বিরুদ্ধে যারা লড়াই করেছেন, তারাই বীর মুক্তিযোদ্ধা—এ বিষয়টি ইতোমধ্যে সংসদীয় আইনে স্বীকৃত।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

মন্ত্রী বলেন, যারা নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেন অথচ ইতিহাস নিয়ে দ্বিধায় থাকেন, তাদের উচিত ইতিহাসের প্রকৃত নায়কদের সম্মান রক্ষা করা। তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র গণঅভ্যুত্থান কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ফল। ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই দেশে ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগের সমালোচনা করে বলেন, সংসদকে পাশ কাটিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের প্রক্রিয়া প্রতারণামূলক। জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সংসদকে উপেক্ষা করে বাইরে থেকে সংবিধান পরিবর্তনের চেষ্টা আইনি কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, গণভোট ছাড়াই কীভাবে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বলেন, বড় ধরনের সংস্কারের জন্য জনগণের সরাসরি রায় প্রয়োজন। এ বিষয়ে বিরোধী দলকে সংসদীয় কমিটিতে এসে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টারও সমালোচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এটি কোনো একক দলের সম্পত্তি নয়, বরং দেশের সব মানুষের ত্যাগের ফসল।

সংস্কারের নামে নির্বাচন বিলম্বিত করার চেষ্টা বরদাশত করা হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। একই সঙ্গে সংবিধানে থাকা কিছু বিতর্কিত বিধান এখনও বহাল থাকার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন।

অর্থ পাচারের প্রসঙ্গে মন্ত্রী দাবি করেন, গত ১৫ বছরে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে, যা দিয়ে একাধিক বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব ছিল। পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দেন তিনি।

ব্যাংক দখলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আগে ভয় দেখিয়ে ব্যাংক দখল করা হতো, এখন ধর্মীয় স্লোগান ব্যবহার করে একই কাজ করা হচ্ছে। পদ্ধতি বদলালেও লুণ্ঠন বন্ধ হয়নি উল্লেখ করে তিনি এ প্রবণতা বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

শেষে তিনি বলেন, কে বড় মুক্তিযোদ্ধা—এই বিতর্কে না গিয়ে দেশের সম্পদ রক্ষা ও উন্নয়নে সবাইকে মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।