শুক্রবার
০১ মে ২০২৬
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: আজ মহান মে দিবস। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক এ দিনটি বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’। এ উপলক্ষ্যে দেশের ও বিশ্বের সকল শ্রমজীবী মানুষকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে শ্রমিকদের অবদান অপরিসীম। শিল্প, কৃষি ও নির্মাণসহ প্রতিটি খাতে তাদের নিরলস পরিশ্রমই অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছে। উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক, ন্যায্য অধিকার এবং পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ একটি মানবিক ও শ্রমিকবান্ধব রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে বলেন, বর্তমান সরকার শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নিয়মিত মজুরি পর্যালোচনার মাধ্যমে ন্যায্য মজুরি এবং নারী-পুরুষের সমান মজুরি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায় ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
এদিকে মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে, ১৮৮৬ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর হে মার্কেটে শ্রমিকরা আট ঘণ্টা কর্মদিবসসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনে নামেন। ওই আন্দোলন দমন করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন শ্রমিক নিহত হন। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই বিশ্বব্যাপী শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের ভিত্তি গড়ে ওঠে।
এদিকে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশে বিভিন্ন খাতে ১৮৬ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৮৫ জন পুরুষ ও ১ জন নারী। একই সময়ে আহত হয়েছেন ৩৩৫ জন শ্রমিক। খাতভিত্তিক হিসাবে পরিবহন খাতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ও পোশাক খাতে সবচেয়ে বেশি আহতের ঘটনা ঘটেছে।
মে দিবসের এই দিনে শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবিই আবারও সামনে এসেছে।