মঙ্গলবার
০৫ মে ২০২৬
২০শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: বাংলাদেশ ও ভারত-এর মধ্যকার সম্পর্ক নতুন করে গতি পেতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে স্থবির হয়ে থাকা ৪০টিরও বেশি দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া পুনরায় সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে দিল্লি।
নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, দুই দেশের প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের পর যোগাযোগে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও এখন বাণিজ্য বৃদ্ধি, ভিসা সহজীকরণ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে উভয় দেশই আগ্রহী।
ঢাকা ও দিল্লি-এর মধ্যে দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে।
পানি বণ্টন ইস্যুতে তিনি জানান, গঙ্গা নদী-এর পানি চুক্তি নবায়নের প্রক্রিয়া প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হবে। একইসঙ্গে দুই দেশের মধ্যে থাকা ৫৪টি অভিন্ন নদী নিয়ে যৌথ নদী কমিশন ও কারিগরি কমিটির মাধ্যমে আলোচনা চলছে।
তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গে বিক্রম মিশ্রি বলেন, এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতার কারণে আটকে আছে। এ বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর অবস্থানের পরিবর্তন হবে কি না, তা নিয়ে এখনই মন্তব্য করতে চান না তিনি।
সীমান্ত, ভিসা, বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানে ভারত ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে ঘিরে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারত সব সময়ই বাংলাদেশের যেকোনো সরকারের সঙ্গে কাজ করেছে, যা একটি স্বাভাবিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়া।
এছাড়া নরেন্দ্র মোদী ও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস-এর মধ্যে পূর্ববর্তী বৈঠকের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন এবং অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানের ওপরই ভবিষ্যৎ সম্পর্কের গতিপথ নির্ভর করবে।