বুধবার
০৬ মে ২০২৬
৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১২ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি ব্যাংকের গ্রাহকরা আমানত ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।
বুধবার (৬ মে) সকালে ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন—চট্টগ্রাম বিভাগ’-এর ব্যানারে নগরের নিউমার্কেট এলাকায় জড়ো হয়ে এই কর্মসূচি শুরু করেন তারা।
বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংক-এর চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং নিউমার্কেট এলাকায় কর্মসূচি সীমাবদ্ধ রাখতে অনুরোধ জানায়। পরে তারা আলকরণ মোড় ও জিপিও এলাকার সামনে অবস্থান নেন।
গ্রাহকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা “হেয়ার কাট” (মুনাফা কেটে রাখা) নীতি বাতিল এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং লেনদেন চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের অভিযোগ, অনেকেই ব্যাংকে গিয়ে নিজেদের কষ্টার্জিত টাকা তুলতে পারছেন না।
আলোচ্য ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক। এসব ব্যাংকে প্রায় ৭৫ লাখ গ্রাহকের ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকার আমানত রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেয়। এতে তিনটি দাবি উত্থাপন করা হয়—আমানত ফেরতের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা, সংশ্লিষ্ট মুখপাত্রের বক্তব্য প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে এমন মন্তব্য থেকে বিরত থাকা।
সংগঠনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমানতকারীদের অর্থ দিয়েই ব্যাংকের কার্যক্রম চলে, অথচ তাদের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করা হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আফতাব উদ্দিন জানান, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তার স্বার্থে বিক্ষোভকারীদের নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান নিতে বলা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন ছিল।
উল্লেখ্য, এর আগে খাতুনগঞ্জ ও আগ্রাবাদ এলাকায় এসব ব্যাংকের কয়েকটি শাখায় তালা দেন ক্ষুব্ধ আমানতকারীরা।