শুক্রবার
০৮ মে ২০২৬
২০শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি সহজে পরিবর্তন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তি কোনো ব্যক্তি পর্যায়ের সমঝোতার মতো নয়, যা ইচ্ছামতো বদলানো যায়।
শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার বাইশটিলা এলাকায় জেলা পরিষদ ন্যাচারাল পার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “চুক্তি হয় দুটি দেশের মধ্যে। দুজন ব্যক্তির মধ্যে চুক্তি হলে তা চট করে রদবদল করা যায়, কিন্তু দুটি রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়।”
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক চুক্তিতে উভয় পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে বিভিন্ন ধারা সংযোজন করা হয়। কিছু ধারা এক পক্ষের অনুকূলে যায়, আবার কিছু ধারা অন্য পক্ষের সুবিধা নিশ্চিত করে। এভাবেই একটি ‘উইন-উইন সিচুয়েশন’ তৈরির চেষ্টা থাকে।
তবে তিনি বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের সময় যদি দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো বিষয় সামনে আসে, তাহলে সেই ধারা সংশোধনের সুযোগও চুক্তির মধ্যেই থাকে।
মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের দাম অন্য দেশের তুলনায় খুব সামান্য বেড়েছে। এর প্রভাব পণ্যমূল্যে স্থায়ী হবে না।
তিনি বলেন, “এটি একটি ওয়ানটাইম স্পাইক বা সাময়িক মূল্যবৃদ্ধি। ডিজেলের দাম যে পরিমাণ বেড়েছে, তাতে পণ্যের দাম খুব বেশি বাড়ার কথা নয়।”
কেউ অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়ালে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বন্দর ব্যবস্থাপনা নিয়ে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, দক্ষতার ঘাটতির কারণে দেশে পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। এ সমস্যা সমাধানে বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে একটি ডেনিশ কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকারি কলকারখানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের কাজ ব্যবসা করা নয়। অদক্ষতার কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠানে লোকসান হয় এবং এতে জনগণের অর্থ অপচয় হয়। তাই লোকসানি শিল্পকারখানা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাইশটিলা ন্যাচারাল পার্ক নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জেলা পরিষদের ৪৩ একর জায়গাজুড়ে আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে কেবল কার, রোপব্রিজসহ শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নানা বিনোদন সুবিধা থাকবে। সরকার এ প্রকল্পে অর্থায়ন করবে বলেও জানান তিনি।