সোমবার
১১ মে ২০২৬
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর পর এখন সেই সংঘাত থেকেই বের হওয়ার পথ খুঁজছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিকের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে বাড়ছে অস্বস্তি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের ইতি না টানলেও ট্রাম্প একাধিকবার নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন। হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে খুলে দেওয়ার ঘটনাকেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তবে বাস্তবে পরিস্থিতি তার প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি জটিল হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক অভিযান ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করেছেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সময়সীমাও বারবার বাড়ানো হচ্ছে। যদিও মাঝে নতুন হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে, বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে এবং জনমত জরিপে রিপাবলিকানদের সমর্থন কমতে শুরু করেছে। এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত শেষ করতে চাইছেন, যাতে তার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিকল্পনা ব্যাহত না হয়।
অন্যদিকে ইরানের অবস্থান এখনো অনড়। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, বাইরের চাপিয়ে দেওয়া কোনো শর্ত তারা সহজে মেনে নেবে না। ফলে কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে পড়েছে ওয়াশিংটন।
দ্য আটলান্টিক জানিয়েছে, ট্রাম্প বিশ্বাস করেন যেকোনো ধরনের সমঝোতাকেই তিনি রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবেন। কিন্তু এখনো ইরানকে কার্যকর আলোচনার টেবিলে আনতে পারেননি তিনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে সংঘাতের সূচনা হয়। এরপর ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্রদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এতে জর্ডান, ইরাক, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিমান চলাচলেও বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে ৮ এপ্রিল সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে সরাসরি আলোচনাও হয়েছে, তবে কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান দীর্ঘ সময় চাপ সহ্য করার প্রস্তুতি নিয়েই এগোচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নেও বলা হয়েছে, তেহরান কয়েক মাস পর্যন্ত বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম।
এ অবস্থায় যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, ততই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর। আর সেই কারণেই যুদ্ধের চেয়ে এখন কূটনৈতিক সমাধানের পথেই বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।