শনিবার
১৬ মে ২০২৬
৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১২ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


সিনিয়র রিপোর্টার:: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যোগ্যতা ছাড়া কাউকে ভর্তি করানো যাবে না।
শনিবার (১৬ মে) সকালে চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিকভাবে ভর্তি হলে প্রতিষ্ঠানের মান নষ্ট হয়। মেডিক্যাল শিক্ষার মান ধরে রাখতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, পর্যাপ্ত ফ্যাকাল্টি ও অবকাঠামো নিশ্চিত না করে আসনসংখ্যা বাড়ানো উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যখাতে শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, বরাদ্দের সঠিক ব্যবহারও নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে দুর্নীতির মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতের বিপুল অর্থ অপচয় হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে আমির খসরু বলেন, এবারের বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা ব্যয় সরকার বহন করবে এবং এ জন্য বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয় করে চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া মৌলিক অধিকার। বর্তমান সরকার সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কাজ করছে। সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার কারণে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসায় বেসরকারি হাসপাতালের সহায়তা নেওয়া হবে। সেখানে চিকিৎসা নিলে বিল সরকার পরিশোধ করবে।
মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, মাল্টিমিডিয়া সুবিধা, ডিজিটাল লাইব্রেরি, খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বলেন, বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। তাই শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকতে হবে।
দেশে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের ঘাটতির কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দক্ষ জনবলের অভাবে কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এজন্য মেডিক্যাল টেকনোলজি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন তিনি।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাস খাতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বকেয়াও পরিশোধ করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার একটি ঋণাত্মক অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছে। অর্থনীতি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে।
নতুন ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা বাংলাদেশের বড় সমস্যা। তাই দ্রুত কাজ শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণের গুণগত মানও নিশ্চিত করতে হবে। ভবনের নকশায় পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি কমপক্ষে ২০০ থেকে ২৫০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেন।