বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোমবার

১৮ মে ২০২৬

৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১২ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

গ্রাফিতি মোছার অভিযোগ ‘ডাহা মিথ্যা’: মেয়র শাহাদাৎ

স্টাফ রিপোর্টার: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাৎ হোসেন নগরীতে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগকে “ডাহা মিথ্যা” ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার বলে মন্তব্য করেছেন।

সোমবার (১৮ মে) টাইগারপাসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি মহল জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

মেয়র বলেন, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের গ্রাফিতি মুছে ফেলার জন্য তিনি কখনো কোনো নির্দেশ দেননি এবং ভবিষ্যতেও দেবেন না।

তার ভাষ্য, নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নিয়মিত দেয়াল, পিলার ও স্থাপনা থেকে পোস্টার-ব্যানার অপসারণ ও রং করার কাজ করা হয়। টাইগারপাসসহ যেসব স্থানে রং করা হয়েছে, সেখানে মূলত পোস্টারে ঢেকে থাকা দেয়াল পরিষ্কার করা হয়েছে এবং দৃশ্যমান কোনো গ্রাফিতি ছিল না।

ডা. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “জুলাই-আগস্টের চেতনার বিরুদ্ধে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমি নিজে দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে আন্দোলন করেছি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরাম আমারই অনুসারী ছিল।”

তিনি আরও বলেন, নতুন করে গ্রাফিতি আঁকার উদ্যোগ নেওয়া হলে তা যেন পরিকল্পিত, শৈল্পিক ও নান্দনিকভাবে করা হয়। এ জন্য আর্ট কলেজের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কিংবা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও অর্থায়নের আশ্বাসও দেন।

মেয়রের মতে, “অপরিকল্পিত হাতের লেখার পরিবর্তে শৈল্পিক ও মানসম্মত গ্রাফিতি শহরের সৌন্দর্য ও ভাবমূর্তি আরও সমৃদ্ধ করবে।”

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা সহায়তার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ৪ আগস্ট অনেক হাসপাতাল আহতদের ভর্তি নিতে অনাগ্রহ দেখালে তিনি নিজ উদ্যোগে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন। এছাড়া ৬ আগস্ট চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গিয়ে আহতদের আর্থিক সহায়তাও দেন বলে জানান।

এনসিপির সাম্প্রতিক বক্তব্য ও কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, “সামনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্যই একটি মহল এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে।”

নিজের মেয়াদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি বৈধভাবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং বর্তমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত বহাল রয়েছে। তবে দ্রুত অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবিও জানান তিনি।

লালখান বাজার এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির বিষয়ে মেয়র বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তিনি নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্মীদের সরিয়ে আনেন।

তিনি বলেন, “এই শহর সবার। আমরা একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে চাই। সংঘাত বা সাংঘর্ষিক কোনো পরিস্থিতি আমরা চাই না।”