সোমবার
২৫ মে ২০২৬
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে দুর্গম ও ভাঙাচোরা যোগাযোগব্যবস্থার সুযোগ নিয়েই সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান।
সোমবার (২৫ মে) সকালে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান-পরবর্তী প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
র্যাব-৭ অধিনায়ক জানান, রোববার (২৪ মে) রাতে যৌথ বাহিনী এলাকায় প্রবেশের সময় দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে রাস্তা কেটে রাখা হয়েছে। এতে যানবাহন এগোতে পারেনি এবং সদস্যদের হেঁটে অভিযান চালাতে হয়েছে। ফলে সময়ক্ষেপণের সুযোগে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
তিনি বলেন, হামলার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২০ থেকে ২৫ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নিরীহ ব্যক্তিদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে।
বর্তমানে এলাকায় যৌথ বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন। র্যাব, জেলা পুলিশ, এপিবিএন ও রেঞ্জ রিজার্ভ পুলিশের সদস্যরা সেখানে মোতায়েন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, হামলায় প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ সশস্ত্র সন্ত্রাসী অংশ নেয়। তারা এলএমজি সদৃশ অস্ত্র, রাইফেল, দেশীয় অস্ত্র ও ককটেল ব্যবহার করে। তবে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন। কোনো সদস্য নিহত হননি, যদিও ইট-পাটকেল ও ককটেল বিস্ফোরণে কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন।
র্যাব সদস্য নিখোঁজ হওয়ার গুঞ্জনও নাকচ করেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে র্যাব-৭ অধিনায়ক বলেন, ইয়াসিন ও তার সহযোগীরা আলীনগর সংলগ্ন পাহাড়ি ও জঙ্গলে অবস্থান পরিবর্তন করে লুকিয়ে থাকে। মূল সড়ক থেকে সেখানে পৌঁছাতে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগে। ভাঙা রাস্তার কারণে দ্রুত অভিযান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি আরও বলেন, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার অনেক সহজ হবে।
সন্ত্রাসীদের কাছে আগাম তথ্য পৌঁছে যায় কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রশাসনের ভেতর থেকে তথ্য ফাঁসের কোনো প্রমাণ নেই। মূল সড়কের প্রবেশমুখে থাকা লোকজন মোবাইল ফোনে খবর পৌঁছে দেয়।
এ সময় তিনি বলেন, হত্যা ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হলেও অনেকেই পরে জামিনে বের হয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।